৩রা মার্চ, ২০১৯ ইং, রবিবার, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মহান শহীদ , আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও বিএসকে ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎযাপন


প্রকাশিত :১৮.০২.২০১৯, ২:১১ অপরাহ্ণ

মহান শহীদ , আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও বিএসকে ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎযাপন

গত রোববার ১৭ই ফেব্রুয়ারি২০১৯ বিকেলে স্থানীয় কিম্পু ফরেন সেন্টারের হলরুমে বাংলাদেশ স্পোর্টস অ্যান্ড কালচারাল ইন কোরিয়ার উদ্যোগে হয়ে গেলো মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে এক মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান , সেই সাথে বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে যারা নিজেদের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে পেরেছেন , তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান মান্যবর রাষ্ট্রদূত ।

কাজী শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিম্পুর নগরীর মেয়র জং হা ইয়ং, বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী ও কিম্পু ফরেন সাপোর্ট সেন্টারের প্রধান চে ইয়ং ইল।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে বলেন দক্ষিণ কোরিয়াতে প্রথম বারের বিএসকের মতো কোন সামাজিক সংগঠন মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সুন্দর আয়োজন করেছে এবং অন্যান্য সামাজিক সংগঠন গুলোকে বাংলাদেশের “জাতীয় দিবস ” এইভাবে উৎযাপন করার আহবান জানান ।। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে ঢাকার রাস্তায় নেমে আসা বাঙালি ছাত্রজনতার ওপর পাকিস্তানি সরকারের নিপীড়নবাদী পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণের কথা উল্লেখ করেন। এ সময় মাতৃভাষার অধিকার ও মর্যাদারক্ষায় বাঙালির অত্যুজ্জ্বল ত্যাগ, আত্মদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষা ও সংস্কৃতির দারুণ মেলবন্ধন রয়েছে। মাতৃভাষার জন্য যেমন আমরা রক্ত দিয়েছি, তেমনি কোরিয়ানরা কোরিয়ান হাংগলের জন্য অনেক লড়াই সংগ্রাম করেছেন। ভাষার এই মেলবন্ধনের ওপর দাঁড়িয়ে মানুষে মানুষে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।

কীম্পু সিটির মেয়র বলেন এক সময় কোরিয়ানদের ও জাপানের নিজ ভাষা ও জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে জাপানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়েছিলো বিধায় কোরিয়া ও বাংলাদেশের সংগ্রামের ইতিহাসের মধ্যে মিল থাকায় আমরা পরস্পর সংহতিবদ্ধ । আগামীতে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক উন্নয়নের লক্ষে কীম্পু সিটি অগ্রনী ভুমিকা পালান করবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন ।। মেয়র কিম্পুতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

কাউন্সেলর মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আপামর মানুষের মহোত্তম গৌরবের দিন। দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃত। দিনটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত দিন।

উক্ত অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন সংগঠনের উপদেষ্টা তাজুল ইসলাম টনি, আব্দুল হামিদ, সিনিয়র সহ সভাপতি মোমেন বায়েজ, সহ সভাপতি ফরিদ উদ্দিন , এনামুল, রিয়াদ, জসীম সহ আরো অনেকেই।

সভাপতি কাজী শাহ্ আলম তার বক্তব্যে গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভাষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে “।

শ্রদ্ধা জানিয়েছেন একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রয়াত “রফিকুল ইসলাম “ এর স্মৃতির প্রতি।

সভাপতি, মান্যবর রাষ্ট্রদূতকে আন্তরিকভাবে আহবান জানিয়েছেন,”আপনি অভয় দিলে আরো সুন্দর সুন্দর অনুষ্ঠান করতে আমরা বদ্ধপরিকর “।

আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক সাইফুল করিম সুইট, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন মিয়াজি, বঙ্গবন্ধু পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও দক্ষিণ কোরিয়ার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক রানা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজিজ, বিসিকের সভাপতি আরশাদ আলম বিকি ও সাধারণ সম্পাদক শিশির, যুবলীগের প্রতিষ্ঠা সভাপতি জুয়েল মোল্লা ও ইউসুফ হোসেন ।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক: মোহাম্মদ তারেক, সহযোগিতায় ছিলেন ওমর ফারুক হিমেল।

এবং
শ্রম ও ইমিগ্রশন বিষয়ক দোভাষী রনেল চাকমা ননি

প্রাণবন্ত আলোচনা, পারস্পরিক ভাববিনিময়, ই-৭-৪ ভিসাপ্রাপ্ত F-২-৬ ভিসাপ্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান, নানা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিরা পরস্পরকে জেনেছেন, চিনেছেন অনুষ্ঠানে। সবমিলিয়ে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মিলনমেলা ও কোরিয়ান নাগরিকদের সাথে সেতুবন্ধনের বড় প্লাটফর্ম।

অনুষ্ঠানে কিম্পু শহরের মেয়র জং হা ইয়ং ও কিম্পু ফরেন সাপোর্ট সেন্টারের প্রধান চে ইয়ং ইলকে বাংলাদেশি উত্তরীয় পরিয়ে দেন মান্যবর রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।

যে মালিকেরা বাঙালির ভিসা পরিবর্তনে সহযোগী ছিলেন, তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও পুরস্কৃত করেছেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।

গত বছর সংগঠনটি বাংলাদেশের জাতীয় অনুষ্ঠান ‘বিজয় দিবস ‘পালন করেন এবং কীম্পু সিটিতে দূতাবাস কতৃক কন্সুলেট সেবা প্রদানের সময় সহযোগিতা করেন সংগঠনের সবাই ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon