৯ই মে, ২০১৯ ইং, বৃহস্পতিবার, ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই স্মার্ট কফি বালক স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন


প্রকাশিত :২০.১২.২০১৮, ৭:২২ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই স্মার্ট কফি বালক স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন

কফি বালক! ২০১৮ইং সালের প্রথম দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে জাগো নিউজ এর মত কিছু আলোচিত সংবাদ মাধ্যমের সৌজন্যে আলোচনার শীর্ষে ছিল নামটি। ৮ বছরের ছোট এই ছেলেটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন সিগন্যাল পয়েন্টে ছোট ভাইবোন, অসুস্থ্য মা-বাবার মুখে খাবার সংগ্রহ করে দেওয়ার জন্য কফির কেটলি নিয়ে রাস্তায় কফি বিক্রি করতো। স্থানীয় এক যুবক তারেক আজিজ নামে তার বাস্তব, সংগ্রামী, করুন জীবন-যাবন নিয়ে কয়েকটি ছবি দিয়ে ফেসবুকে পোষ্ট করার সাথে সাথে তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান (পিপিএম বার) দৃষ্টিতে পরে। তারপর ঐ সময়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন এর মাধ্যমে ছেলেটিকে খুঁজে বের করে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ছেলেটিকে স্থানীয় একটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ল্যাবরেটরী স্কুল নামে ভাল মানের একটি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়। সেই সাথে ছেলেটির লেখাপড়ার জন্য সার্বিক দায়িত্বও তৎকালীন পুলিশ সুপার বহন করেন। বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়া গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করায় সারা বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে এই মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার জন্য কফি বালক থেকে স্কুলে বালকে রূপান্তরিত হওয়ার গল্প। ছেলেটির নাম রিপন, বয়স-৯। ঐ সময়ে উক্ত স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়। আজ ঐ স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করায় ছেলেটির মা-বাবার চোখে মুখে আনন্দের অশ্রু এখন। ছেলেটির বাবা প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টিকর্তার নিকট ধন্যবাদ জ্ঞাপন করার সাথে সাথে এসপি (বর্তমানে অতরিক্ত ডিআইজি) মিজানুর রহমানকেও ধন্যবাদ জানিয়েছে। রিপন এর প্রথম স্থান অর্জন করায় অতিরিক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানও অনেক খুশি। সাথে সাথে মোবাইলে বলেছেন নতুন বছরে রিপন এর জন্য নতুন বই, স্কুল ব্যাগ, স্কুল ড্রেস সহ যাবতীয় যা যা প্রয়োজন ঢাকা থেকে পাঠাবে। অন্যদিকে তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বর্তমান কর্মস্থল কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনও ওর রেজাল্ট এর খবর শুনে মোবাইলে ঐ স্কুলের শিক্ষকদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। প্রকাশ থাকে যে, যে দুইজন ওর কফি বালকটির ভাগ্য বদলিয়ে দেওয়ার জন্য সাহায্য সহযোগিতা করেছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, তারা সময়ের বিবর্তনে আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে অনেক দূরে। তারপরও প্রতিমাসে কফি বালক থেকে স্কুল বালক হওয়ার রিপন এর জন্য ঠিকই খোঁজ খবর নিয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন এর নজির রেখেছে।




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon