১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, সোমবার, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • প্রচ্ছদ » অপরাধ » বাংলা ট্রিবিউনসহ খ্যাতনামা গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট নকলকারী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার



বাংলা ট্রিবিউনসহ খ্যাতনামা গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট নকলকারী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার


প্রকাশিত :২৪.১১.২০১৮, ৮:১১ অপরাহ্ণ

বাংলা ট্রিবিউনসহ খ্যাতনামা গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট নকলকারী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার


অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউনসহ ২২টি গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট নকল করার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তার নাম এনামুল হক। শনিবার বিকালে র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে কমলাপুর রেলওয়ে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

গত বুধবার (২১ নভেম্বর) থেকে এনামুল হক নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবার দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল। তিনি আশকোনা থেকে নিখোঁজ হন।

র‌্যাব কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, ‘এনামুল হক কোরিয়াতে বসে বাংলা ট্রিবিউন, বিবিসি বাংলা, প্রথম আলোসহ অন্তত ২২টি খ্যাতনামা গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট নকল করেছিল। বাংলাদেশে বসে তার মাস্টার কার্ড ব্যবহার করে ডোমেইন কিনতো, এরপর কোরিয়াতে বসে নকল সাইট তৈরি করতো। এনামুল হক ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন। তখন তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। বৃত্তি পেয়ে কোরিয়ায় পিএইচডি গবেষণায় চলে যান। সেখানে বসে এসব নকল সাইট তৈরি করেন। এসব নকল সাইট তৈরির সঙ্গে বাংলাদেশ, কোরিয়া ও ইতালিতে বিশাল একটি চক্র আছে।’

র‌্যাব কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, ‘এসব নকল সাইট ভিজিট থেকে যে আয় হতো, তার ৭০ শতাংশ ছাত্রশিবিরের তহবিলে জমা হতো।’

মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, ‘এই ঘটনায় কমলাপুর রেলওয়ে থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

গত ১৪ নভেম্বর বাংলা ট্রিবিউনের মত হুবহু প্রায় একই নামে একটি ওয়েবসাইট অনলাইন পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই চক্রটিকে আটকে কাজ শুরু করে। ওই ঘটনার ১০ দিন পর ধরা পড়লো চক্রের মূলহোতা এনামুল হক।

www.banglatribune.com-এর আদলে অতিরিক্ত একটি ইংরেজি অক্ষর ‘আই’ যোগ করে ওই ওয়েবসাইটটি খোলা হয়। সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রটি বাংলা ট্রিবিউনের সকল কন্টেন্ট কপি করে ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছে। এছাড়া বাংলা ট্রিবিউন সম্পাদক জুলফিকার রাসেল ও প্রকাশক কাজী আনিস আহমেদের নামও হুবহু ব্যবহার করে।

র‌্যাব জানিয়েছে, এই চক্রটি ২০১৩ সাল থেকে এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তবে গত তিনমাস ধরে তারা ব্যাপকহারে বাংলা ভাষার গণমাধ্যমগুলো নকল করা শুরু করে। বাংলা ট্রিবিউন নকল করতে চক্রটি গত ১৯ সেপ্টেম্বর ফেক ওই ওয়েবসাইটটি নিবন্ধন নেয়। এক বছর মেয়াদি নিবন্ধন নেওয়া ওয়েবসাইটটি বাংলা ট্রিবিউনের মূল ফ্রন্ট পেজ ডাউনলোড করে নকল ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার রাত ১টায় কোরিয়ায় যাওয়ার জন্য আশকোনার বাসা থেকে রাত ১০টার দিকে বের হয়েছিলেন পিএইচডি গবেষক এনামুল হক। এসময় তার বন্ধুর ছোট ভাই তাকে রিকশায় উঠিয়ে বিদায় নেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল এনামুল। এনামুল নিখোঁজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার স্বজন ও বন্ধুরা স্ট্যাটাস দেয়। সেখানে মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার তাদের নম্বরে অপহরণকারী পরিচয় ফোন আসে। 

এনামুলের পরিবার দাবি করেছে, ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ‘অপহরণকারী’ পরিচয়ে তার স্বজনদের ফোন দেয় একটি চক্র। তারা দেড় লাখ টাকা দাবি করে। ওই নম্বরে তারা একলাখ টাকাও পাঠিয়ে দেয়। তবে তারপরও ফেরত আসেনি এনামুল। এরপর শুক্রবার দক্ষিণখান থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।

নিখোঁজ এনামুল ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে বৃত্তি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কিওংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (কেএনইউ) পিএইচডি করছেন। তার গ্রামের বাড়ি পাবনা।

এনামুলের স্ত্রী নাজমিন সুলতানা জানান, আমরা শুনতে পেরেছি র‌্যাব তাকে আটক করেছে। তবে, আমারা ঠিকভাবে এখনও জানিনা কেন, কি জন্য তাকে আটক করা হয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর দেশে এসেছিলেন এনামুল।

রাজধানীর দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘র‌্যাব তাকে আটক করেছে, বলে আমরাও শুনতে পেরেছি।’

সংগৃহীত: বাংলা ট্রিবিউন



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon