২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



একজন সৎ সহাসী পুলিশ কর্মকর্তার গল্প


প্রকাশিত :৩১.১০.২০১৮, ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

একজন সৎ সহাসী পুলিশ কর্মকর্তার গল্প

পুলিশ শব্দটি শুনলেই অনেকে বিরূপ মন্তব্য পোষণ করেন। কিছু সংখ্যক অসাধু পুলিশ সদস্যের কারণে পুলিশ বিভাগে দুর্নামও হয় মাঝে মধ্যে। তাই পুলিশের খারাপ খবরগুলোই চোখে পড়ে আমাদের। কিন্তু সে পুলিশ যখন ভাল কাজ করে বেড়ায় সে খবর ক’জন রাখে? তেমনই বাংলাদেশ পুলিশের একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সরাইল সার্কেলে নিয়োজিত এএসপি মনিরুজ্জামান ফকির।

পুলিশের ভাল খবর জানতে আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, সরাইল সার্কেলে নিয়োজিত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকির এর সঙ্গে।

পুলিশ জনগণের বন্ধু, পুলিশকে অনেকেই জনগণের সেবক হিসেবেই মানেন। আর পুলিশ জনগণের সেবায় নিয়োজিত বলেই সমাজে বড় ধরনের কোনো অপরাধ ঘটাতে অপরাধী হাজার বার চিন্তা করে।

এএসপি মনিরুজ্জামান ফকির পুলিশের একজন চৌকস কর্মকর্তা। নিজের জীবন বাজি রেখে অপরাধীদের মোকাবেলা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রতিনিয়তই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এ পুলিশ কর্মকর্তা সন্ত্রাসীদের ধরতে গিয়ে বারবার আঘাত পেয়েছেন। তদন্ত কার্যক্রমে তিনি সিডিএমএস বাস্তবায়নে আইজিপি কর্তৃক বিশেষ পুরষ্কার প্রাপ্ত হন এ কর্মকর্তা।

ফরিদপুর এর ভাংঙ্গা উপজেলায় গ্রামের এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া এ বালকই আজ জনগণের সেবক। সততা, নিষ্ঠা আর কর্মস্পৃহা দিয়ে প্রতিনিয়তই এগিয়ে চলছেন এ কর্মকর্তা। প্রান্তিক মানুষের নয়নের মনে হয়ে উঠেছেন প্রশাসনের নিযুক্ত এ কর্মকর্তা। এএসপি মনিরুজ্জামান ফকিরকে ভালবাসেন না এমন লোক ও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

২০১২সালের ৩রা জুন পুলিশ বাহীনিতে যোগ দেন মনিরুজ্জামান ফকির। মাদারীপুর জেলার এএসপি (সদর/সার্কেল) এ কাজ করে বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। মননশীল চিন্তা আর ভাল মানসিকতার দরুন তিনি দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছেন। ভাল কাজ আর সাহসিকতার কারণে ২০১৭ সালে একাধিকবার জেলার শ্রেষ্ঠ এএসপি সম্মাননা পান।

বর্তমানে তিনি নারী, শিশু নির্যাতন, মাদক, বাল্যবিবাহ, জঙ্গি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সদা তৎপর থেকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদায় পুলিশ সুপার, সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত (বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি) মিজানুর রহমান পিপিএম বার এর খুবই ¯েœহভাজন একজন পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ফকির। বর্তামান পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খাঁন পিপিএম এর ও একজন আস্থাভাজন পুলিশ কর্মকর্তাও তিনি। দুই বছর কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলোচিত কয়েকটি মামলার তদন্ত করেছেন। তারমধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হত্যা ছিল শিশু “রিফাত হত্যা”। সর্বশেষ আশুগঞ্জ থানার রিক্সা মার্ডার চাঞ্চল্যকর রিক্সাওয়ালা হত্যাকা-ের বিষয়ে তদন্ত করছেন পুলিশের এ চৌকস কর্মকর্তা।

পুলিশের এ মেধাবী কর্মকর্তা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে পুলিশিং সেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা বিশ্বাস করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে আমরা পুলিশিং সেবায় নিজেদের বিলিয়ে দেবো। পুলিশ জনগণের বন্ধু, জনগণের টাকায় আমাদের বেতন হয় তাই জনগণের সমস্যা, সুখ-দুঃখে আমাদের পাশে থাকা একান্ত বাঞ্ছনীয়।

৯৯৯ পুলিশিং সেবার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের কাছে প্রায় ১৫০-২০০টির মত অভিযোগ এসেছে। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সাথে নিয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

২০১৭ সালে ডাকাতদের ধরতে গিয়ে একাধিকবার আহত হন এএসপি মনিরুজ্জামান ফকির। তারুণ্য নিয়ে তাহার আগ্রহ বেশ। তাইতো হাজারো তরুণ তার ভক্ত। তাছাড়া তার অধীনস্ত তিনটি থানাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন নামক একটি করে ডেক্স তিনি পরিচালনা করে আসছেন। যেখানে ভুক্তভূগী নারী ও শিশুদের পুলিশি সহায়তা খুব দ্রুত দেয়া হয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon