২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, বুধবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



গাড়ি চালকদের বুকে ঝড়িয়ে নিলেন পুলিশ কর্মকর্তা


প্রকাশিত :১১.০৮.২০১৮, ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ

গাড়ি চালকদের বুকে ঝড়িয়ে নিলেন পুলিশ কর্মকর্তা

শান্তি, নিরাপত্তা, প্রগতি! ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, নিরাপদে বাড়ি ফিরুন এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জের গোল চত্বরে, আশুগঞ্জ থানা পুলিশের উদ্যোগে ট্রাফিক সপ্তাহ ২০০৮ পালন করা হয়। উক্ত অভিযানটি নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল সার্কেলে নিয়োজিত এএসপি মনিরুজ্জামান ফকির। দুপুর ৩ টা থেকে অভিযান শুরু হয়। এই অল্প সময়ের ভিতরেই পুলিশের এই অভিযান দেখতে স্থানীয় শত শত লোক জড়ো হয়। পুলিশের এই ট্রাফিক অভিযানে অংশ নেয় কিছু স্কাউটসের সদস্য। তাছাড়া এলাকার স্থানীয় কিছু যুবক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করে। সবচেয়ে দর্শনীয় বিষয় ছিল যখন কোন গাড়ীর কাগজপত্র সঠিক বলে বিবেচিত হয়েছিল, সেই গাড়ী চালককে সম্প্রতি পুলিশের প্রশংসীয় অফিসার এএসপি মনিরুজ্জামান ফকির তাদের ফুল দেন এবং বুকে জড়িয়ে নেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত শত শত জনগন এবং গাড়ি চালকরা এই ভালবাসায় আবেগে আপ্লুত হয়ে পরেন। উপস্থিত জনতার মধ্যে অনেকেই বলতে থাকেন পুলিশ ছিল একটি ভয় ও আতংকের নাম। সারা জীবন মামলায় দিয়েছে আমাদের। এমন দৃশ্য কখনও দেখি নি। তবে মধ্যে মধ্যে দেখতাম অনেকে ফুল দিত, কিন্তু বুকে জড়িয়ে নেয় নি কেউ। পুলিশের এই কাজকর্ম দেখে এলাকার স্থানীয়রা সহ বিভিন্ন গাড়ী চালকগুলোও ছিল পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ছোট ছোট সিএনজি মোটরসাইকেল থেকে নিয়ে বড় বড় বিলাশবহুল গাড়ির কাগজ পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছিল। মজার বিষয় হচ্ছে যে, এক পর্যায়ে জনতার অনুরোধে এএসপি মনিরুজ্জামান ফকির পুলিশের কয়েকজন সদস্যর গাড়ীর লাইসেন্স চেক করেছিলেন। সবার কাগজপত্র ঠিক থাকায় কোন মামলা হয় নি। স্থানীয় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে এএসপি মনিরুজ্জামান ফকির বলেন ‘আইন সবার জন্য সমান, আপনারা হয়তো দেখেছেন যে, আমি কয়েকজন পুলিশের গাড়ির কাগজপত্র দেখেছি, এমনকি আমার গাড়ি চালকের কাগজপত্রও আপনাদের সামনে দেখিয়েছি, যদিও সবার কাগজপত্র ঠিক ছিল। কয়েকটি গাড়িকে আমরা কোন কাগজপত্র না থাকায় আটক করে থানায় পাঠিয়েছি, আর যাদের কিছু কাগজপত্র সমস্যা ছিল তাদের আমরা মামলা দিয়েছি, হেলমেট যাদের নাই তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হয়নি, মামলা দেওয়া হয়েছে। গাড়ী চেক করা ছাড়াও ড্রাইভার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার উপর হয়তো আপনার পুরো পরিবার নির্ভর করে, নিজে সচেতন হউন, অন্যকে সচেতন হতে উৎসাহিত করুন, গাড়ীর কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন।” পুলিশের এই মূল্যবান উপদেশমূলক বানী সবার হৃদয় জয় করে তুলেছে। তাছাড়া পুলিশের এই অফিসার বিগত ২ বছর ধরে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে নয়, পুরো বাংলাদেশে একটি আলোচিত নাম। আলোচিত রিফাত হত্যা সহ বড় কয়েকটি হত্যা মামলার তদন্ত ও কার্যক্রমে তিনি একজন জনপ্রিয় পুলিশ হয়ে উঠেন জনগনের কাছে। সবশেষে সন্ধ্যায় পুলিশের এই অভিযান বন্ধ করেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon