১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং, বুধবার, ২রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



শ্বাসরূদ্ধকর ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ


প্রকাশিত :১০.০৬.২০১৮, ৩:২৬ অপরাহ্ণ

শ্বাসরূদ্ধকর ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ


মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রমীলা এশিয়া কাপ টি-২০ ২০১৮ আসরে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। রোববার কিনরারা ওভালে

টস হেরে এদিন পর ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ। সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল হয়নি, সেটি বেশ সার্থকভাবেই প্রমাণ করেন বাংলাদেশের বোলাররা। দলীয় ১২ রানেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। এরপর ধীরে ধীরে সাজঘরের পথ ধরেন বাকি ব্যাটাররাও। দলীয় সংগ্রহ পঞ্চাশ পেরোনোর আগেই ভারত হারায় টপ অর্ডারের চারজন ব্যাটারকে। এরপর প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর।

দলের অন্যরা ক্রিজে যাওয়া-আসার মধ্যে ব্যস্ত থাকলে তিনি একপ্রান্ত আগলে রেখে দেখেশুনে খেলতে থাকেন। শেষপর্যন্ত তিনিই দলকে এনে দেন সম্মানজনক সংগ্রহ। সাতটি চারের সহায়তায় ৪২ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। দলের পক্ষে দ্বিতীয় কেউ স্পর্শ করেননি ‘১২’ রানও। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১২ রান, ৯ উইকেট হারিয়ে। বাংলাদেশের পক্ষে খাদিজা তুল কুবরা ও রুমানা হক দুটি এবং সালমা খাতুন ও জাহানারা আলম একটি করে উইকেট শিকার করেন।

ফাইনালে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালো শুরুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন দুই ওপেনার শামিমা সুলতানা ও আয়েশা রহমান। শুরুতে দুই ওপেনার মন্থর ব্যাটিং করলেও ধীরে ধীরে রানের চাকা সচল করেন দুই ওপেনার। তবে শামিমা ১৬ ও আয়েশা ১৭ রান করে সাজঘরে ফিরলে কিছুটা চাপ ভর করে বাংলাদেশের উপর।

এরপর প্রতিরোধ গড়ে তুলেন ফারজানা হক ও নিগার সুলতনা। তাদের জুটিটাও বড় হতে দেননি পুনম যাদব। পুনমের বলে উড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন ফারজানা হক। কিন্তু ব্যাটে বলে ঠিকমতো না হলে ক্যাচ চলে যায় উইকেটরক্ষকের কাছে।

রুমানা আহমেদকে নিয়ে হাল ধরেন নিগার সুলতানা। দুজন মিলে খেলতে থাকেন দেখেশুনে। তবে দুজনকে চেপে ধরেন ভারতের বোলাররা। ১৫ তম ওভারে টানা তিন বলে তিন চার মেরে চাপ কমিয়ে আনেন নিগার সুলতানা। কমান বল আর রানের টানাপোড়েন।

পরের ওভারেই নিগার সুলতানাকে ফিরিয়ে দেন পুনম যাদব। পুনমের সেই ফ্লাইটের কাছেই পরাস্ত হন নিগার। ডাউন দ্যা উইকেটে এসে বলকে ফুল্টস বানিয়ে উড়িয়ে মেরেছিলেন নিগার সুলতানা। কিন্তু বাউন্ডারি পার হয়নি। হয়ে যান ক্যাচ আউট।

এরপর রুমানা আহমেদ ও ফাহিমা খাতুন আরো ১৩ রান যোগ করেন। কাউরের বলে উইকেটের বাইরে এসে মারতে গিয়ে বিদায় নেন ফাহিমা খাতুন। ৭ বলে ৯ রান করেন তিনি। আউট হওয়ার আগে দুই বলে এক চারসহ ছয় রান আসে ফাহিমার ব্যাট থেকে। ঐ ওভারে ১০ রান আসলে শেষ ১২ বলে প্রয়োজন ছিল ১৪ রান।

ঊনিশ তম ওভারে বাংলাদেশকে চেপে ধরেন শর্মা। মাত্র দেন চার রান। শেষ ওভারে ৯ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের।

প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে সানজিদা স্ত্রাইক দেন রুমানা আহমেদকে। ওভারের দ্বিতীয় বলেই ইনসাইড আউটে এসে দারুন শটে চার হাঁকান রুমানা। পরের বলে আবারো প্রান্তবদল করেন দুই ব্যাটসম্যান।

শেষ তিন বলে প্রয়োজন ছিল ৩ রান। ডাউন দ্যা উইকেটে এসে তুলে মারতে গিয়ে সানজিদা বিদায় নিলে ম্যাচ হয়ে উঠে আরো শ্বাসরূদ্ধকর। রুমানা আহমেদ এক রান নিয়ে দুই রানের জন্য এগিয়ে গেলেও অসচেনতনতার কারণে হন রান আউট।

শেষ বলে বাংলাদেশের দরকার ছিল ২ রান। জাহানারা ডাউন দ্যা উইকেটে এসে পুল করে দ্রুতগতিতে দুই রান নিয়ে নিলে নিশ্চিত হয় শিরোপা। মাঠে দৌড়ে চলে আসে বাঘিনীরা। শুরু হয় জয়োল্লাস। প্রথমবারের মতো কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্ট জেতার স্বাদ পায় বাংলাদেশ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon