২১শে জুন, ২০১৮ ইং, বৃহস্পতিবার, ৭ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে মমতা সব কিছু পজিটিভ, এর বাইরে কিছু বলতে চাই না


প্রকাশিত :২৭.০৫.২০১৮, ১২:২৮ অপরাহ্ণ

শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে মমতা
সব কিছু পজিটিভ, এর বাইরে কিছু বলতে চাই না


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তাঁরা ৫০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সইয়ের ব্যাপারে মমতার সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মমতা তিস্তা প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাই না। ’
ভারতীয় বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল জি২৪ঘণ্টার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠক শেষে মমতা বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্পর্ক ঠিক রাখার দায়িত্ব দুই দেশেরই। তিনি আরো বলেন, ‘এ রাজ্যে (পশ্চিমবঙ্গ) বঙ্গবন্ধু ভবন তৈরি করতে চাই। দুই দেশ অনুমতি দিলে তৈরি করব। ’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তিস্তার পানিবণ্টনে প্রস্তাবিত চুক্তি ভেস্তে যায়। তিনি সেই আপত্তি এখনো প্রত্যাহার করেননি।

শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা তিস্তা ইস্যুতে জানতে চাইলে মমতা বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই কিছু আলোচনা করতে চাই না প্রকাশ্যে। ’
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। কলকাতায় ‘বঙ্গবন্ধু ভবন’ হবে। অরবিন্দ ভবনেই মূলত এটার একটা জায়গা নেওয়া হচ্ছে। সেখানেই তৈরি হবে বঙ্গবন্ধু ভবন। ” শেখ হাসিনাকে ডি.লিট ডিগ্রি দেওয়া প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘তাঁকে ডি.লিট ডিগ্রি দিতে পেরে আমরা গর্বিত। আজকের মিটিং (বৈঠক) খুব ভালো হয়েছে। সব কিছু পজিটিভ (ইতিবাচক)—এটাই বলতে চাই। এর বাইরে কিছু বলতে চাই না। ’

ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্ক বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাবসায়িক সম্পর্ক আরো বাড়ানোর জন্য মিটিং হয়েছে। দুই দেশের অর্থাৎ দুই বাংলার মানুষজন যাতে সুখে থাকতে পারে সে বিষয়ে আলাপ হয়েছে।

এদিকে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সইয়ের ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শুক্রবার তাঁর দুই দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের প্রথম দিনে তিস্তা ইস্যুর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে একত্রে চলতে চায় এবং এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যকার সব সমস্যার নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে আমাদের এখনো কিছু সমস্যা রয়েছে, যা আমি এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের স্বার্থে উত্থাপন করতে চাই না। অবশ্য আমি বিশ্বাস করি যে বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা যায়। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শুক্রবার শান্তিনিকেতনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘তিস্তা চুক্তিসহ সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিস্তা চুক্তিসহ বেশ কিছু বিষয় অনিষ্পন্ন আছে। আমরা চাই সেগুলো শিগগিরই সমাধান করতে। ’ গওহর রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন। চাপ দিয়েছেন। আশা করি, খুব তাড়াতাড়িই হবে। কিন্তু তারিখ দেওয়া (চুক্তি সইয়ের) খুবই অসম্ভব আপাতত। ’



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon