৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, বৃহস্পতিবার, ২৪শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় এক পুলিশের ডাকে রাস্তায় শতশত যুবক


প্রকাশিত :২৮.০৪.২০১৮, ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় এক পুলিশের ডাকে রাস্তায় শতশত যুবক


তারেক আজিজ॥ একজন পুলিশ কর্মকর্তা, এএসপি মনিরুজ্জামান ফকির, যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল সার্কেলে নিয়োজিত। বিভিন্ন ভালকাজের জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি আলোচিত নাম। সরাইলে কর্মস্থল হওয়ায় বিভিন্ন সিগন্যাল পয়েন্টগুলোতে ময়লার স্তুপ দেখতে পায় অনবরত। বিষয়টি নিয়ে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা ভাবতে বসে। তারপর ফেসবুকে কয়েকটি ছবি দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিজ এলাকাকে রাখতে স্লোগান দেয়। স্লোগানটি হল “পরিচ্ছন্ন সরাইল, সুস্থ সরাইল” নামে। তারপর ফেসবুকের কল্যানে ভাইরাল হওয়া স্লোগানে ঐ এলাকার কয়েকটি সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন আইডিয়া দিতে থাকে কমেন্ট বস্কে। বিষয়টি আলোচিত হওয়ায় একটি সভা ডাকে। সভায় কয়েকটি সামাজিক সংগঠন সহ সর্বসস্মতিক্রমে ঘোষনা করা হয় যে, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সরাইল থানা পুলিশের উদ্যোগে সরাইলের বিভিন্ন সিগন্যাল পয়েন্ট ৩০টি ডাষ্টবিন (ড্রাম) স্থাপন করা হবে। যার ফলে ঐ জনবহুল সিগন্যাল পয়েন্টগুলো বিভিন্ন ময়লা আবর্জনার দুর্ঘন্ধ থেকে মুক্তি পাবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকাল ১০টায় সরাইলে বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় ২০০জন যুবককে নিয়ে বিভিন্ন সিগন্যাল পয়েন্টে ডাষ্টবিন স্থাপন এর কাজ করা হয়। সংগঠনগুলির মধ্যে অন্যতম জাগো ফাউন্ডেশনের অঙ্গ সংগঠন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ, আলোর মিছিল, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা, আত্মতা, সেবানন্দ, প্রত্যাশা, পরিবর্তন চাই, প্রভাতী প্রমুখ। ডাষ্টবিন স্থাপনের সময় বিভিন্ন দোকানে গিয়ে দোকানদাদের এমনকি পথচারীদের ঐ পুলিশ কর্মকর্তা সহ প্রায় ২০০জন অনুরোধ করেন যেন ডাষ্টবিনগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করে।
ডাষ্টবিন স্থাপন অভিযান এর আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এএসপি মনিরুজ্জামান ফকির বলেন, যত-তত্র ময়লা ফেলায় রোগের ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি এলাকার সৌন্দর্যহানিও ঘটে।

তাছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা একটি এলাকার মর্যাদা বৃদ্ধি করে। আমরা যদি এ অভিযানটিকে সাফল্যমন্ডিত করতে পারি, তাহলে এক সময় আমাদের দেশটাও একটি পরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করবে। তিনি বলেন, সরাইলবাসীর গর্ব করার মতো অনেক ইতিহাস রয়েছে। আর সেই ইতিহাস এমনিতেই তৈরি হয় না। সেজন্য কাজ করতে হয়। ভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি, স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বাংলাদেশ আমাদের, আমরা এখানকার গর্বিত নাগরিক। সময় এসেছে দেশটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার। তাই আসুন, ভবিষ্যত প্রজন্মকে একটি সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নদেশ উপহার দিতে সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করি। সরাইল সার্কেল আরো বলেন, আমাদের কাজ হবে মানুষকে সচেতন করে তোলা। যাতে তারা যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা ডাষ্টবিনগুলোতে ফেলেন। শুধুমাত্র পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দোষ দিলে হবে না। তারা এককভাবে কোনোদিন এ সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। সেজন্য আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। নিজের এলাকার সৌন্দর্য আমাদের নিজেদের হাতে, এ বিষয়টিকেই মাথায় রাখতে হবে। একমাত্র সচেতনতাই পারবে আমাদের এই শহড়টাকে বদলে দিয়ে নতুন রূপে সাজিয়ে দিতে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon