২২শে মে, ২০১৮ ইং, মঙ্গলবার, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চলে যাচ্ছেন “মিষ্টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া” খ্যাত এসপি মিজানুর


প্রকাশিত :১৭.০৪.২০১৮, ১:৩৮ অপরাহ্ণ

চলে যাচ্ছেন “মিষ্টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া” খ্যাত এসপি মিজানুর

তারেক আজিজ॥ এসপি মিজানুর রহমান! ব্রাহ্মণবাড়িয়া! সম্পর্কটা কি এই দুইটা বাক্যেই সীমাবদ্ধ? জন্মস্থান, শৈশব, কৈশোর, শিক্ষা জীবন কোনটাই নয় এই ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে। চাকুরীর সুবাদে শুধু মাত্র কর্মজীবন প্রায় তিন বছর অতিবাহিত করেছেন এই শহরে! কিন্তু তিন বছরেই এই শহরে যে মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যার ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী তাকে ভালবেসে নাম দিয়েছে “মানবতার ফেরিওয়ালা, দ্যা রিভাইবার অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মিষ্টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া।” গত কয়েকদিন আগে নতুন এসপি আগমনের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় এসপি মিজানুর থেকে পদোন্নতি হয়ে বাংলাদেশের পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হওয়ায় চলে যেতে হচ্ছে তাকে। প্রিয় মানুষের বিদায়। কেউ মেনে নিতে পারছে না। ‘বিদায়’ শব্দটা শহরবাসীকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে। শহরের পিচ ঢালা পথ থেকে পাড়াগাঁয়ের মেটো পথেও বিদায়ের করুন সুর বাজছে। চায়ের স্টলগুলোতে এখন সবচেয়ে কষ্টেভরা জনপ্রিয় শব্দ বিদায় ‘মিষ্টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া’। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর জনাব মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম (বার) তাঁর কর্মকালীন সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন। তার একটি বক্তব্য ইতিহাসে জায়গাও পাওয়ার মত “ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হয় আমি থাকব, না হয় মাদক থাকবে”। তাছাড়া আইন-শৃংখলা সু-রক্ষাসহ অনেক মহৎ ও নানামুখী কল্যানমূলক উল্লেখযোগ্য এতিম হাবিবার রাজকীয় বিয়ে, এতিম, প্রতিবন্ধী, ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো, উত্তরাঞ্চলের বন্যাত্রের সাহায্যার্থে তহবিল গঠন, শহরের প্রাণ টাউন খাল পরিষ্কার, শহরের সেতুর সৌন্দর্যবর্ধন, নারী নির্যাতন রোধকল্পে উইমেন সাপোর্ট সেন্টার স্থাপন, নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৭ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত খারঘর গনকবরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ,স্বর্ণপ্রবাসীদের বিশেষ সেবার দেয়ার জন্য প্রবাসী হেল্পডেস্ক চালুকরণ, পুঙ্গ মৌসুমির চিকিৎসা সেবা সহ বহু কাজের অংশীদার তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিশুপরিবারের সকল ছোট মেয়েরা এসপি মিজানুরকে অভিভাবক হিসেবে বিবেচনা করত। এসপি অফিসে সারাদিনই ছিল বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের ভীর। সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় বিষয় ছিল গ্রামের নির্যাতিত শ্রেণীর মানুষের উপস্থিতি। ঐ শ্রেণীর মানুষগুলো কোন জায়গায় সু-বিচার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দারস্ত হত এই এসপি মিজানুর এর নিকট। নিন্ম শ্রেণীর মানুষগুলোর খুব কাছের মানুষ ছিলেন এই এসপি মিজানুর রহমান। লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে, সারাবিশ্বে যেখানে পুলিশ শব্দটা নেতিবাচক বিভিন্ন খবরের শিরোনাম হয় সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছিল ভিন্ন। পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রমে ইতিবাচক শব্দ ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে সবচেয়ে জনপ্রিয় শব্দ ছিল পুলিশ। লাখো ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর হৃদয়ের মানুষ মিষ্টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া খ্যাত এসপি মিজানুর রহমান চলে যাচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর নববর্ষের আনন্দ ছাপিয়ে এখন মূল শিরোনাম এসপি মিজানুর এর বিদায়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon