১৫ই আগস্ট, ২০১৮ ইং, বুধবার, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



স্মৃতিসৌধে দাদাভাইয়ের নাম খুঁজছেন দুই নাতি


প্রকাশিত :২৯.০৩.২০১৮, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ

স্মৃতিসৌধে দাদাভাইয়ের নাম খুঁজছেন দুই নাতি

তারেক আজিজ॥
কবি জসীম উদ্দীনের কবিতার বিখ্যাত লাইনটি শুরু হয়েছিল “ঐ খানে তর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে, তিরিশ বছর বিজিয়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে”। কবি জসীম উদদীনের মতই এক মাদ্রাসা পড়ুয়া বড় ভাই ছোট ভাইকে হয়তো বুজাচ্ছিল এইখানেই আমাদের দাদাভাইকে কবর দেওয়া হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরা দাদাভাইকে মেরেছিল, বাবা বলেছে এইখানেই নাকি আমাদের দাদাভাইয়ের কবর। ছোট ভাই খুব আবেগতারিত হয়ে বড় ভাইয়ের কথাগুলো শুনছিল এবং স্মৃতি ফলকে চোখ দুটো দাদাভাইয়ের নাম খুঁজে বেড়াচ্ছিল।

মহান মুক্তিযোদ্ধের দীর্ঘ ৪৭ বছর অতিক্রম হয়ে গেল। মুক্তিযোদ্ধের ১১টি সেক্টরের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ ও ৩ নং সেক্টরের মধ্যে লিপিবদ্ধ ছিল। বর্ডার এলাকায় জেলাটি হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধের শেষের দিনগুলিতে পাকিস্তানিরা যে কয়েকটি জেলার উপর নির্মম হামলা চালিয়েছিল তার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্যতম। যে এলাকায় আক্রমন করেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরা সে এলাকাকে মানবশূন্য করে ফেলেছিল। বাংলাদেশে যে কয়েকটি গণহত্যা চালিয়েছিল তার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে খারঘর গনহত্যা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বিটঘরের গণহত্যা অত্যতম।

১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর খারঘর গ্রামে নির্বিচারে গণহত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। সেদিন ওই গ্রামের ৪৩ জনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ২৩ জনকে খারঘর গ্রামেই গণকবর দেয়া হয়। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও সংরক্ষণ করা হয়নি মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এ গণকবরটি। স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রম করার পরও এই প্রত্যান্ত অঞ্চলগুলিতে কারও সু-নজর যায় নি। অবশেষে ঐ দুইটি জায়গার মধ্যে আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের উদ্যোগে খারঘর গ্রামে নির্মিত হয়েছে খারঘর গণকবর স্মৃতিসৌধ-৭১।


আজ সকাল ১১:০০ ঘটিকার সময় স্মৃতিসৌধটি উদ্বোধন করা হয়। জেলা পুলিশের সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে খারঘর গণকবর স্মৃতিসৌধটি নির্মাণে উদ্বোধন ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) জনাব মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম (বার)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া – ৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য জনাব ফয়জুর রহমান বাদল। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসাইন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার প্রমুখ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon