২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, সোমবার, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • প্রচ্ছদ » রাজনীতি » এতিমের টাকা আত্মসাৎ; জিয়া এতিমখানার অস্তিত্ব কোথায় : ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি



এতিমের টাকা আত্মসাৎ; জিয়া এতিমখানার অস্তিত্ব কোথায় : ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি


প্রকাশিত :০৮.০২.২০১৮, ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ

এতিমের টাকা আত্মসাৎ ; জিয়া এতিমখানার অস্তিত্ব কোথায় : ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি

রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার দলীয় সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি বলেছেন, বিএনপি’র শাসনামলে তৎকালীণ প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে বিদেশ থেকে সাহায্য আসে। সেই অর্থ পরে জিয়া অরফানেন্স ট্রাস্টে স্থানান্তর করা হয়। যে অর্থের বর্তমান মূল্য ২৫০ কোটি টাকা। কিন্তু এই সাহায্য এতিমদের কল্যাণে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, এই দেশে কোথায় জিয়া এতিখানার অস্তিত্ব?

বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতে বাপ্পি দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত ‘খালেদার বাংলাদেশ খবরটি লজ্জার, অপমানের, ট্রান্সপারেন্সির সুচকে বাংলাদেশ টানা ৫ম বারের শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ এবং দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘দুর্নীতিতে এশিয়ায় শীর্ষে ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার, নেই বাংলাদেশ’ খবরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি’র শাসনামলে দেশে লাগামহীন দুর্নীতি হয়। খালেদা-তারেক ৩৩ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করেন। খালেদা বিশে^র শীর্ষ দুর্নীতিবাজ। খালেদা-তারেক সৌদি-দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যে ১২শ’ কোটি টাকা, বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালেশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার পাচারের তথ্য উদঘটিত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্যারাডাইস পেপারস কেলেংকারিতে তারেক-কোকো, আব্দুল আওয়াল মিন্টু, মিন্টুর স্ত্রী ও দুই ছেলের নাম এসেছে। পালিয়ে থাকা বা নির্বাসিত রাজনীতিবিদদের মধ্যে তারেক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবৈধ সম্পদের মালিক। তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ২২৫ কোটি ডলার। প্রতিমাসে যুক্তরাজ্যে বসবাসের জন্যে ৫০ হাজার পাউন্ড ব্যয় করে, যা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর খরচের চেয়ে বেশী। তারেকের স্ত্রী জোবাইদা এবং কন্যা জাইমার নামে ৭৭০ কোটি টাকা রয়েছে বলে জানিয়েছে বৃটিশ ট্র্যাক্স এটর্ণি নাইজেল পপলওয়েল।
তিনি আরো বলেন, হাওয়া ভবন খুলে ৫ বছরে দ্ইু লাখ কোটি, বিদ্যুৎখাতে ২১ হাজার কোটি ও রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকে ৯৮০ কোটি দুই লাখ টাকা লুটপাট করা হয়। চীনের হারবিন কোম্পানীকে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৭৫০ কোটি টাকা ঘুষ নেন তারেক। যা সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকে জমা করা হয়। এছাড়া মোমেন কনস্ট্রাকশন কোম্পানীকে কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়ার জন্য সাড়ে ৭ লাখ মার্কিন ডলার ঘুষ নিয়ে তা সিঙ্গাপুর ব্যাংকে জমা করা হয়। তিনি একটি হত্যা মামলার আসামীকে রক্ষা করতে তারেক ২১ কোাটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলো। এই তথ্য দুনীতি দমন কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

সংসদ সদস্য বাপ্পি বলেন, বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি আত্মপ্রত্যয়ী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিএনপির দুই নেতা মির্জা ফখরুল ও রিজভী আহমেদ একে অপরকে রাজাকার হিসেবে গালি দেয়। এই হচ্ছে বিএনপির অবস্থা। আগামী নির্বাচনে জনগন খালেদা জিয়াকে বাংলাওয়াশ করে দেবে। গুম নিয়ে বিএনপি এখন অনেক কথা বলে। অথচ এই গুমের ঘটনার উদ্যোক্তা জিয়াউর রহমান। তার আমলে ছাত্রলীগ নেতাকে গুম করা হয়েছিলো। জনগণ এসব ভোলেনি।

ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি বলেন, মার্কিন তারবার্তা ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর প্রকাশিক একটি খবরে তারেককে ‘নটরিয়াজ ও ওয়াইডলি ফেয়ার্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়। আকুণ্ঠ দুনীতি নিজমজ্জিত তারেককে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ২০০৯ সালের ১১ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টিভি চ্যানেল পিভিএস ফ্রন্টলাইনের রিপোর্টার ডেভিট মন্টেরো এক রিপোর্টে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে তার দুই ছেলে তারেক কোকো নির্লজ্জ দুনীতি করেছে বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া দি ইকোনোমিষ্ট-এর এক প্রতিবেদনে খালেদার শাসনামল চুরির শাসন আমল এবং তারককে মিষ্টার টেনপার্সেন্ট বলে আখ্যায়িত করা হয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon