১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, মঙ্গলবার, ৫ই পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ



রেসকোর্স থেকে ইউনেস্কো – তোফায়েল আহমেদ


প্রকাশিত :১৫.১১.২০১৭, ২:৩৬ অপরাহ্ণ

রেসকোর্স থেকে ইউনেস্কো
– তোফায়েল আহমেদ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, যে ভাষণ শুধু বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়কেই নাড়া দেয়নি, সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আমরা আগে বলতাম, বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ। এই ভাষণের মধ্যদিয়ে তিনি সমগ্র জাতিকে জাতীয় মুক্তির মোহনায় দাঁড় করিয়েছিলেন। একটি ভাষণের মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি।’ তিনি যদি হুকুম দিবার নাও পারেন তাহলে এই ভাষণ জাতির সামনে থাকবে এবং এই ভাষণে তিনি যা উল্লেখ করেছেন সেগুলোই আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। ভাষণে সেই নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন পৃথিবীর মধ্যে একজন বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন রাষ্ট্রনায়ক। যা বিশ্বাস করতেন তাই বলতেন এবং যা একবার বলতেন তার সঙ্গে কখনো তিনি আপস করতেন না। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছি এই পাকিস্তান বাঙালিদের জন্য হয় নাই। একদিন বাংলার ভাগ্যনিয়ন্তা বাঙালিদেরকে হতে হবে।’ সেই উপলব্ধি থেকে ১৯৪৮-এর ৪ জানুয়ারি আমাদের প্রিয় ছাত্রপ্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগ এবং ’৪৯-এর ২৩ জুন—যেদিন স্বাধীনতার লাল সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, সেই দিনটিকে বেছে নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করে মহান জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ধীরে ধীরে তিনি একটি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

পাক-ভারত যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতির সামনে তিনি ৬ দফা দাবি পেশ করেছিলেন। ৬ দফা দেওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে সভা করেছেন গ্রেফতার হয়েছেন, আবার সভা করেছেন ফের গ্রেফতার হয়েছেন, জামিন পেয়েছেন। যখন পাকিস্তানের স্বৈরশাসক ফিল্ডমার্শাল আইয়ুব খান অনুভব করেছিলেন যে, তাঁর কণ্ঠ দাবানো যাবে না, তাঁকে চিরদিনের জন্য শেষ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার নামে একটি মামলা দিয়ে তাঁকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলাবার চেষ্টা করেছিলেন। আমরা জাগ্রত ছাত্রসমাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু’র ভিপি, জিএস এবং ৪টি ছাত্র সংগঠনের ৮ জন ছাত্রনেতাসহ ঐক্যবদ্ধভাবে ১০ জন ছাত্রনেতা মিলে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করি। আসাদ, মতিউর, মকবুল, রুস্তম, আলমগীর, সার্জেন্ট জহুরুল হক, ড. শামসুজ্জোহাসহ অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে ’৬৯-এর ১৭ জানুয়ারি যে আন্দোলন আমরা শুরু করেছিলাম, ২০ জানুয়ারি আসাদকে হত্যা করার পরে ২৪ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। সান্ধ্য আইন জারি করে আমাদের আন্দোলনকে স্তিমিত করার চেষ্টা করেছিল আইয়ুব খান। কিন্তু পারেন নাই। ৯ ফেব্রুয়ারি পল্টনে আমরা শপথ গ্রহণ করেছিলাম এই বলে যে, ‘শপথ নিলাম শপথ নিলাম মুজিব তোমায় মুক্ত করব, শপথ নিলাম শপথ নিলাম মাগো তোমায় মুক্ত করব।’ আজকে বলতে ভালো লাগে ’৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি প্রিয় নেতাকে কারাগার থেকে মুক্ত করে ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১০ লক্ষাধিক লোকের সামনে কৃতজ্ঞচিত্তে জাতির পিতাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল এই বলে, ‘যে নেতা তাঁর জীবনের যৌবন কাটিয়েছেন পাকিস্তানের কারাগারে, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন, সেই নেতাকে কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞচিত্তে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হলো।’ তারপরে ’৭০-এর নির্বাচন। আমরা বিজয়ী হলাম। আমি ২৭ বছর বয়সে জাতীয় পরিষদের সদস্য হলাম। এরপরের ইতিহাস সকলেরই জানা। সেই নির্বাচনের পর ’৭১-এর ৩ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নব-নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বঙ্গবন্ধু শপথ করিয়েছিলেন এই বলে যে, ‘৬ দফা আজ আমার না, আমার দলের না। এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ৬ দফা জাতীয় সম্পদে রূপান্তরিত হয়েছে।’ কারণ, নির্বাচনটা বঙ্গবন্ধু করেছিলেন রেফারেন্ডাম হিসেবে চিহ্নিত করে। অনেকে বলেছিলেন লিগাল ফ্রেম ওয়ার্ক অর্ডারের অধীনে নির্বাচন করে আপনার লাভ হবে না। তিনি বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের পরে এলএফও আমি টুকরা টুকরা করে ছিঁড়ে ফেলব।’ নির্বাচনের পর তিনি তাই করেছিলেন। এরপর ১ মার্চ যখন জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হলো, দাবানলের মতো জাতি গর্জে উঠল। শ্লোগান তুলল ‘আমার নেতা তোমার নেতা শেখ মুজিব শেখ মুজিব।’ পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে দিল। বিক্ষুব্ধ জনতা শ্লোগান তুলল, ‘ভুট্টোর মুখে লাথি মার বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ ইত্যাদি। ষাটের দশকে আমাদের সেই বিখ্যাত শ্লোগান, ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ এসব শ্লোগানে আমরা রাজপথ মুখরিত করলাম। ৩ মার্চ স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পল্টনে বঙ্গবন্ধুকে সামনে নিয়ে শপথ গ্রহণ করল। স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের চার ছাত্র নেতা ছিলেন আসম আবদুর রব, শাজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকী ও আবদুল কুদ্দুস মাখন। বঙ্গবন্ধু সেদিনই ঘোষণা দিলেন, ৭ মার্চ জাতির উদ্দেশে তিনি ভাষণ দেবেন।

আমাদের জীবনে এল ৭ মার্চ। সেদিন ছিল রবিবার। সকাল থেকেই ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনটি আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্রনেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সরগরম ছিল। পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী বেলা ২টায় সভা শুরু হওয়ার কথা। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমরা সভামঞ্চে এলাম ৩টা ১৫ মিনিটে। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা শুরু করেন ৩টা ৩০ মিনিটে এবং ১৮ মিনিটের একটি বক্তৃতা দিলেন যা ঐতিহাসিক যুগান্তকারী। বঙ্গবন্ধুর সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। একদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যায় আখ্যায়িত না হওয়া, অপরদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা। শ্রদ্ধেয়া বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কাছে শুনেছি, ৬ তারিখ রাতে বঙ্গবন্ধু পায়চারি করেছেন এবং ভেবেছেন কী বলবেন! এটা কোনো লিখিত বক্তব্য ছিল না। এই বক্তৃতাটি ছিল তাঁর হূদয়ের গভীরে যে বিশ্বাস সেই বিশ্বাস থেকে উত্সারিত। শ্রদ্ধেয়া ভাবি অর্থাত্ বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বলেছেন, ‘তোমার এত চিন্তার কারণ কী? সারা জীবন তুমি একটি লক্ষ্য নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছ, তোমার জীবনের যৌবন তুমি কারাগারে কাটিয়েছ, ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছ, তুমি যা বিশ্বাস কর, সেই বিশ্বাস থেকেই আগামীকাল (অর্থাত্ ৭ মার্চ) বক্তৃতা করবে।’ ঠিক সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি বক্তৃতা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নাম যখন ঘোষিত হলো তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালেন, আপনারা জানেন সেই ৭ই মার্চের ভাষণ-‘ভাইয়েরা আমার’ বললেন। বঙ্গবন্ধুর বৈশিষ্ট্য ছিল যেখানেই জনসভা করতেন বাংলার মানুষকে হূদয়ের গভীরতা থেকে অন্তরের সঙ্গে সম্বোধন করতেন ‘ভাইয়েরা আমার’ বলে। জনসভার উত্তাল তরঙ্গ, সমুদ্রের গর্জনের মতো শব্দ মুহূর্তেই শান্ত হয়ে যেত। সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ, লোকে লোকারণ্য। কারোর হাতে বৈঠা, কারোর হাতে কৃষকের লাঙলের ফলা, শ্রমিকের হাতে লাঠি। তিনি যখন বক্তৃতা শুরু করলেন ‘ভাইয়েরা আমার’ বলে পিনপতন নিস্তব্ধতা চারদিকে। তার মধ্যে তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণটি রাখলেন। কাছে থেকে আমাদের মনে হয়েছিল এই দিনটির জন্যই তো বঙ্গবন্ধু অপেক্ষা করেছিলেন। সুন্দর একটি বক্তৃতা তিনি রাখলেন। খুউব সতর্কতার সঙ্গে তাঁকে বক্তৃতা দিতে হয়েছে। একদিকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন, অপরদিকে যাতে তাঁকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করতে না পারে—সে ব্যাপারে তিনি সজাগ ছিলেন। বক্তৃতার মাঝখানে তিনি চারটি শর্ত আরোপ করে দিলেন। মার্শাল ল প্রত্যাহার কর, সেনাবাহিনী ব্যারাকে নিয়ে যাও, নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর কর এবং গত কয়েকদিনে যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কর। এই ৪টি শর্ত দিয়ে বোঝালেন যে, তিনি পাকিস্তান ভাঙতে চান না। তারপরই বললেন, ‘আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, বাংলার মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব।’ প্রত্যেকটা শব্দ, প্রত্যেকটা কথা, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তিনি উচ্চারণ করলেন। অলিখিত এই ভাষণে সারা জীবন যার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন সেই স্বাধীনতার কথা তিনি হূদয়ের গভীর থেকে বলেছিলেন। তারপর যখন বললেন, ‘ওদেরকে ভাতে মারব, পানিতে মারব’—অর্থাৎ একটা মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়, একটা গেরিলা যুদ্ধ কীভাবে সংঘটিত করা যায়—তার সমস্ত দিকনির্দেশনা তিনি দিয়ে গিয়েছিলেন। শেষ করলেন এই কথা বলে যে, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। সুতরাং, এই ভাষণটা যে একদিন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণের মর্যাদা পাবে এই আস্থা এবং বিশ্বাস আমাদের ছিল। অথচ একদিন এই ভাষণ আমরা বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীতে বাজাতে পারি নাই। যখন ’৯১-তে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছেন তখন নির্যাতন চলেছে এবং এই ভাষণ আমাদের বাজাতে দেয় নাই।

আজ এই ভাষণ শুধু বাংলাদেশেরই শ্রেষ্ঠ ভাষণ না, আন্তর্জাতিক বিশ্বে শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ত্রিশ লক্ষাধিক শহীদের রক্ত, চার লক্ষাধিক মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতার মহানায়ক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ইতিহাসের মহামানব, পৃথিবীর নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যে শ্রেষ্ঠ নেতা, আজ ইউনেস্কোর এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেটা আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ২৭ অক্টোবর এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন এবং ৩০ অক্টোবর প্যারিসে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তা ঘোষণা করেন। আজ আমরা গর্ববোধ করি। আজ জাতির জনক টুঙ্গিপাড়ায় ঘুমিয়ে আছেন। এই বাংলাদেশ তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ, এই বাংলাদেশ তাঁর রক্তে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের জন্যই তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন। এই বাংলাদেশের জন্যই তিনি জীবনের যৌবন তথা ৪,৬৮২ দিন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে চলেছে এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছে। তিনিও আজ শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন।

সাতই মার্চের ভাষণের মূল চালিকা শক্তিই ছিল নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র জাতিতে রূপান্তরিত করা। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে যেতাম—সেই দেরাদুনে আমাদের মুজিব বাহিনীর ট্রেনিং হতো—আমরা বক্তৃতা করতাম, ‘প্রিয় নেতা আপনি কোথায় আছেন কেমন আছেন আমরা জানি না; যতক্ষণ বাংলাদেশকে আমরা হানাদার মুক্ত করতে না পারব প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু, ততক্ষণ আমরা মায়ের কোলে ফিরে যাব না।’ ১৬ ডিসেম্বর দেশকে হানাদার মুক্ত করে আমরা মায়ের কোলে ফিরে এসেছিলাম। আজ ইউনেস্কো কর্তৃক সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্বসভায় স্বীকৃতির এই গৌরবের দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।

লেখক :আওয়ামী লীগ নেতা, সংসদ সদস্য, বাণিজ্য মন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon