২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, বৃহস্পতিবার, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ



নাসিরনগরের “রশরাজ ট্যাজিডির” ক্ষত আর নেই


প্রকাশিত :০৭.১১.২০১৭, ৫:০২ অপরাহ্ণ

নাসিরনগরের “রশরাজ ট্যাজিডির” ক্ষত আর নেই

তারেক আজিজ: নাসিরনগর! বিশ্ববাসীর নিকট একটি ট্যাজিডি। সেই ট্যাজিডিটি শুরু হয়েছিল রশরাজ নামক এক যুবক থেকে। নামকরণ হয়েছিল “রশরাজ ট্যাজিডি”। যে ট্যাজিডির কাছে হার মেনেছিল বাংলাদেশের জনপ্রিয় ক্রিকেট খেলাও। বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলার জয়টা যতটা দ্রুত প্রকাশ পায় তার চেয়ে হাজারো দ্রুত প্রকাশ পেয়েছিল “রশরাজ ট্যাজিডি”। সারাবিশ্বের মিডিয়া বাংলাদেশের নাসিরনগর নয়, বাংলাদেশকে পরিচয় করে দিয়েছিল “নাসিরনগরের বাংলাদেশ” নামে। সি.এন.এন, বিবিসি, আলজাজিরার মত বিদেশী শক্তিশালী মিডিয়াগুলো সারাদিন পর্যায়ক্রমে নাসিরনগরের সংবাদ পরিবেশন করে আসছিল। আর ক্ষুন্ন হচ্ছিল বাংলাদেশের সম্মান।

বিভিন্ন নিরাপত্তাবাহিনীর সম্মানও হুমকির মুখে পরেছিল। ঐ এলাকায় থাকা বিভিন্ন ধর্মের মানুষগুলো নিরাপত্তার অভাবে দিনযাপন করছিল। কিছু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পাশ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দিন দিন দেশ চলে যাচ্ছিল এক ভয়ানক দাঙ্গা-হাঙ্গামার দিকে। সেই কঠিন সময়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার ঢাল স্বরূপ এসেছিল পুলিশ বাহিনী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ প্রশাসন প্রতিনিয়তই বিভিন্নভাবে খোঁজ খবর নিচ্ছিল। আলাদা গুরুত্ব পেয়েছিল সেই নাসিরনগর।

সেই কঠিন মুহুর্তে সরাইল সার্কেলে নিয়োগ পেয়েছিল মোঃ মনিরুজ্জামান ফকির, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ও বিভিন্ন দিক নির্দেশনায় সরাইল সার্কেলে নতুন নিয়োগ পাওয়া মোঃ মনিরুজ্জামান ফকির শুরু করে বিভিন্ন কার্যক্রম। সারা নাসিরনগরে ছিল পুলিশের রাত জেগে নিরাপত্তার চাদর। “রশরাজ ট্যাজিডির” ঘটনায় মন্দির হামলা সংক্রান্তে মামলা রজু ৮টি। তার মধ্যে বর্তমানে আসামী ধরা হয়েছে ১২৪ জন। তারপর পুলিশ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠনকে নিয়ে তদারকী সহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় জনসাধারণের মনে যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক হয়ে আসে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন অভিযানের মধ্য দিয়ে এখন নাসিরনগর শান্তির মুখ দেখছে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আবারও একসাথে বসবাস করছে। বিভিন্ন তথ্যের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায় যে, নাসিরনগর কতটা বদলে গেছে। হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গাপূজা যেখানে গত বছর ছিল ১৩২টি পূজা মন্ডপ, সেখানে এত মহাজঙ্গর পরও এই বছর হয়েছে ১৩৮টি পূজা মন্ডপ।

কোন অসম্প্রদায়িক ঝামেলা হয় নি পূজা মন্ডপগুলোতে। যদিও পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা ছিল। সবচেয়ে বেশ লক্ষ্যনীয় বিষয় ছিল নাসিরনগর থানায় মামলার সংখ্যা দেখলে। যেখানে ২০১৬ সালে ছিল ৩২৯টি সেখানে বর্তমানে মামলা হচ্ছে ২৯৭টি। রাত জেগে পাহারায় থাকা বিভিন্ন পুলিশ এখন নাসিরনগর মানুষের কাছে আদর্শ। সম্প্রতি পুলিশের বিভিন্ন ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে তাদের রাত জেগে পাহারার দেওয়ার ছবি।

আর এইসব কাজকর্মগুলি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান স্যারের দিক নির্দেশনাগুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য সম্প্রতি তাহার স্বীকৃতি স্বরূপ মাননীয় পুলিশ সুপার কর্তৃক শ্রেষ্ঠ্র সার্কেল এএসপির বিশেষ পুরষ্কার গ্রহন করেন, সরাইল সার্কেলে মাত্র ৮ মাস আগে নিয়োজিত হওয়া মোঃ মনিরুজ্জামান ফকির, সিনিয়র সহকরী পুলিশ সুপার।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon