২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, বৃহস্পতিবার, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ



রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেওয়া মিয়ানমারেরই দায়িত্ব


প্রকাশিত :০৫.১১.২০১৭, ১:০৪ অপরাহ্ণ

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেওয়া মিয়ানমারেরই দায়িত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিমন হেনশ ঢাকায় বলেছেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন মিয়ানমারকেই শুরু করতে হবে। এটা তাদেরই দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, নেপিদো সরকারকে রাখাইন রাজ্যে গণনিষ্ঠুরতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করতে হবে। এই প্রক্রিয়া শুরুর ওপরই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর আমেরিকান ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র হিদার নুয়ের্ট রোহিঙ্গা সংকট হোয়াইট হাউসের প্রধানতম বিবেচ্য (টপ প্রায়োরিটি) তালিকায় রয়েছে জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ সংকটের স্থায়ী সমাধান চায়। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট উপস্থিত ছিলেন।

সিমন হেনশ বলেন, তিনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেছেন। সে সময় তিনি স্পষ্টভাবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও সুরক্ষিত প্রত্যাবাসন। কারণ এটাই হতে পারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে সৃষ্ট সংকটের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান। বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক বিপন্ন রোহিঙ্গার উপস্থিতি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় হয়ে ওঠার আগেই এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মিয়ানমারকে এটাও বলা হয়েছে, রাখাইনে গণনিষ্ঠুরতা এবং গণহত্যার যে অভিযোগ রয়েছে, তার যথাযথ তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহি ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাখাইনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে পরিদর্শনের সুযোগও দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সংকট এবং রাখাইনের পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।

বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে জরুরি আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করে হেনশ বলেন, বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তিনি জানান, কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন। রাখাইনে তারা কী ভয়ঙ্কর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার বর্ণনা শুনেছেন। বর্তমানে তারা অত্যন্ত অমানবিক এবং কষ্টকর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। তার পরও বাংলাদেশের জনগণ তাদের সাধ্যের মধ্যে এই বিপন্ন মানুষদের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞও থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সৃষ্টির জন্য দায়ী মিয়ানমার। এর জন্য বাংলাদেশের কোনো দায় নেই। বাংলাদেশ বরং বিপুল পরিমাণ বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বড় চাপ কাঁধে নিয়েছে। অতএব এই সংকটের সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। প্রত্যাবাসন মিয়ানমারকেই শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ এবং সুরক্ষিত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। রাখাইনে তারা যেন অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারে, তাও নিশ্চিত করতে হবে মিয়ানমারকেই। মিয়ানমার কোনো অবস্থাতেই এ সংকটকে পাশ কাটাতে পারে না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাখাইনে গণনিষ্ঠুরতা এবং গণহত্যার অভিযোগের তদন্ত চায় এবং দায়ীদের জবাবদিহি ও বিচারের মুখোমুখি দেখতে চায়। এক্ষেত্রে মিয়ানমারের ভূমিকার ওপরই নির্ভর করবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কতটা কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এটা যুক্তরাষ্ট্র বার বারই মিয়ানমারকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে এবং দিচ্ছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিয়েছে এবং অবস্থান তুলে ধরেছে। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাখেন। এ নিয়ে এখানে মন্তব্যের কিছু নেই। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চীন সফরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কী আলোচনা করবেন সেটাও তার নিজস্ব বিষয়। তবে স্বাভাবিক বিবেচনায় এটা বলা যায়, আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক নানা চলমান ইস্যু আলোচনায় আসতেই পারে।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র হিদার নুয়ের্ট বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এই মুহূর্তে হোয়াইট হাউসের প্রধান বিবেচ্য বিষয়গুলোর অন্যতম। এরই মধ্যে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এ সংকটের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে বলেছে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে, গণনিষ্ঠুরতার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। বাস্তুচ্যুত বিপন্ন রোহিঙ্গাদের জরুরি আশ্রয় দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বাংলাদেশের প্রশংসা করে আসছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের শরণার্থী সংকট নিরসনেই কাজ করছে এবং শরণার্থীদের নিয়মিত মানবিক সহায়তা ও অন্যান্য সহযোগিতা দিচ্ছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon