২৪শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, শুক্রবার, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ



পুলিশের কর্মকাণ্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা


প্রকাশিত :২৮.১০.২০১৭, ৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ

পুলিশের কর্মকাণ্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে জনতা। কিংবা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা পড়ছে কোনো মাদক ব্যবসায়ী-চোরাচালানি। এক কঠিন পরিস্থিতি। এ ধারাতে আত্মসমর্পণের হিড়িক। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী-ডাকাত অধ্যায়েরও সমাপ্তি। নারী নির্যাতন রোধেও আছে সাফল্য। অন্যপাশে বাজছে মানবিকতার সুর। সমাজের উন্নয়ন চিন্তা। অনাথ হাবিবার বিয়ে। পঙ্গু মৌসুমীর চিকিৎসা। পরিত্যক্ত টাউন খালে প্রানের সঞ্চার, ঘোড়াপট্টির পুলে হাতিরঝিলের ছোঁয়া, ব্যাপকভাবে উত্তরাঞ্চলের বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো; ত্রাণ সহায়তা ছাড়াও ঘরনির্মাণ করে দেয়া। এমন আরো অনেক কাজেই আলোচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ। যার নায়ক পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আর সামাজিক কাজকর্মে হাত প্রসারিত করে দেয়া হয়ে উঠেছে তার দিনরাত। 

বর্তমান সময়ে পুলিশের কর্মকাণ্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগ দিয়েই পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সীমান্তবর্তী এই জেলাকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা দেন। ভারত সীমান্তঘেঁষা আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের নোয়ামোড়া গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ৪ সন্তান মো. বাছির মিয়া, মো. ইমন মিয়া, নাসির মিয়া ও জীবন মিয়া। এক মাদক ব্যবসায়ী পরিবার। মোট ৩৯টি মাদক মামলার আসামি এ ৪ ভাই। মাদক ব্যবসায় তাদের সঙ্গী স্ত্রীরাও। অবস্থা বেগতিক দেখে ইদ্রিস মিয়া গোটা পরিবার নিয়ে হাজির হন পুলিশ সুপারের কাছে। অঙ্গীকার করেন আর কোনোদিন মাদক ব্যবসা করবেন না বলে। এমনিভাবে ২০১৫ সালের জুন থেকে এই পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেছে ২৯৯ জন মাদক ব্যবসায়ী। 

হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ ১৭ মামলার আসামি শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী-মাদক ব্যবসায়ী লিঙ্কন অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে সম্প্রতি। শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন এখন শহরের পৈরতলার মানুষ। ২০/২৫ বছর ধরে অপরাধ জগতে ছিলো তার নির্বিঘ্ন পদচারণা। সদর উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশের গজারিয়া এলাকায় পড়েছিলো তার লাশ। খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে। আরেকজন কামাল হোসেন জীবন। শহরের মেড্ডা এলাকার সন্ত্রাসী-ভূমিদস্যু। অনেক নারীর সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছে সে। 

আখাউড়ার ধরখারের একটি বিলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় ১৮ মামলার আসামি কামালের লাশ। এই সন্ত্রাসীদের অপমৃত্যু ছাড়াও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত-সন্ত্রাসী। এ অবস্থায় হিম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় অপরাধীদের মধ্যে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছেড়ে পালিয়ে যায় অনেকে। 
ওদিকে জেলা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট সেন্টার বদলে দিয়েছে অনেক নারীর জীবন। সংসারের ভাঙন ঠেকাতে, সুখী দাম্পত্য জীবন গড়ে দিতে টনিক হিসেবে কাজ করছে এই সাপোর্ট সেন্টারটি। জেলায় নারী নির্যাতন মামলার সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে এই সাপোর্ট সেন্টারের কারণে। মিজানুর রহমানের যোগদানের আগে সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী নির্যাতন মামলার রেকর্ড ছিলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার। নারীদের প্রতি সহিংসতা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে রোধ, যৌতুকের জন্যে মারধর এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সহায়তায় ২০১৫ সালের ৫ই আগস্ট উইমেন সাপোর্ট সেন্টারটি চালু করা হয়। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নারী অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে নারী বান্ধব পরিবেশে চলছে এর কার্যক্রম। সাপোর্ট সেন্টারের সফলতায় মিজানুর রহমান ২০১৭ সালে পিপিএম সেবা পদকে ভূষিত হন। 

এসবের পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে। সরকারি শিশু পরিবারের সদস্য হাবিবা আক্তারের সামনে ছিলো অন্ধকার। ১০ বছর বয়সে পিতৃ-মাতৃহীন কসবার মেহারী গ্রামের এই কন্যাশিশুর ঠাঁই হয় শিশু পরিবারে। নিয়মানুয়ায়ী ১৮ বছর হলে শিশু পরিবারের নিবাসী হিসেবে আর থাকা যায় না। নির্ধারিত দিনে তাকে নিতে নিবাসে আসেন মামা-মামী। কিন্তু নিবাস ছাড়বে না বলে পেছন থেকে শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়কের ওড়না টেনে ধরে রাখে সে। বিষয়টি নিয়ে নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বললে তিনি দায়িত্ব নেন হাবিবার। বলেন, ছেলে দেখতে। যোগ্যতায় মিললে চাকরি দেবেন। তারপর বিয়ে। কনস্টেবল পদে চাকরি দেয়া হয় বর জাকারিয়া আলমকে। সে কসবার সোনারগাঁ গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে। এরপর ব্যাপক ধুমধামে বিয়ে। জাঁকজমকপূর্ণ এই বিয়ের আয়োজনে অতিথি ছিলেন একাধিক সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও শহরের বিশিষ্টব্যক্তিবর্গ। 

বিয়েতে আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক উপহার হিসেবে পাঠান সোনার গহনার সেট আর সদর সংসদ সদস্য র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বর-কনের থাকার জন্য ঘর নির্মাণ করে দেয়ার ঘোষণা দেন। 
তিন বছর আগে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাম পায়ে মারাত্মক আঘাত পায় শহরের পুনিয়াউট এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশু মৌসুমী (৯)। দুর্ঘটনার পর থেকেই স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায় তার। এই মৌসুমীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন পুলিশ সুপার। উন্নত চিকিৎসায় মৌসুমী আবার হাটতে শুরু করেছে। শহরের নয়নপুর গ্রামের দিনমজুর আলাউদ্দিনকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগও নেন পুলিশ সুপার। ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় গাভী ও বাছুর প্রদান করা হয় আলাউদ্দিনকে। আলাউদ্দিনের ৯ ছেলে-মেয়ে। তাদের সবাই পড়াশুনা করছে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলে। কিন্তু সংসারের ঘানিটেনে তাদের পড়াশুনা চালিয়ে রাখা হয়ে পড়ে দূরূহ। বড় ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে বিক্রি করে দিতে হয় একমাত্র সম্বল গরুটিও। 

প্রবল বন্যা আক্রান্ত কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও দিনাজপুরের মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের এ উদ্যোগে সারা দেন সর্বস্তরের মানুষ। শহরের পৌর আধুনিক সুপার মার্কেটের সামনে ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণের বুথে নগদ অর্থ, নতুন কাপড়, শুকনো খাবার, ওষুধ, খাবার স্যালাইন ও বিষুদ্ধ খাবার পানি দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। রিকশা চালকরাও সহায়তা রেখে গেছেন সেখানে। সহায়তা নিয়ে এসেছে স্কুল ছাত্রছাত্রীরাও। ২১শে আগস্ট থেকে ৪ঠা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ হয় জেলা পুলিশের দেয়া ৫ লাখ টাকাসহ নগদ ৫০ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৮ টাকা। এছাড়া ১৫ লাখ টাকার ত্রাণ সামগ্রী মিলে। এ থেকে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের জন্যে ১০ হাজার প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়। দিনাজপুর জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যে শতাধিক ঘর নির্মাণ করে দেয়ার কাজও শেষ পর্যায়ে। 
টাউন খালের দুর্দশার দর্শক ছিলেন সবাই। শহরের পূর্বভাগে তিতাস নদী থেকে শুরু হয়ে আবার গোকর্ণঘাটে তিতাস নদীতে গিয়ে যুক্ত এই খালটি দখল-ভরাটে নৌ-চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে বহু আগে। দূর-দূরান্তের যাত্রী আর পণ্যবাহী সারি সারি নৌকার শহরে আসা- যাওয়ায় এই খালই ছিলো প্রধান পথ। বর্ষায় খাল তীরবর্তী মানুষের দলবেঁধে গোসল, কিশোর-তরুণদের খালের ওপর ব্রিজ থেকে লাফিয়ে পড়ার জপাৎ জপাৎ শব্দ, গল্পকথার মতোই শুনাতো।

অবশেষে সেই খালের দিকে নজর দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার। ক্লিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া কর্মসূচির ব্যানারে খালটি পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে। শহরের টিএ রোডে টাউনখালের ওপর জোর সেতুকে দৃষ্টিনন্দন করতে দেয়া হয়েছে হাতিরঝিলের রূপ। পুলিশ সুপারের প্রেরণায় ৬২ টি সংগঠনের ব্যানারে শত শত তরুণ-যুবক সক্রিয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। আলোর মেলা পথতারার স্কুল, উদীয়মান সূর্য, আলোর পথে নামে গড়ে উঠেছে পথশিশুদের জন্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 
প্রতিবন্ধীদের নিয়েও অনেক কাজ করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ। পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় প্রতিবন্ধীদের নিয়ে গড়ে উঠা ড্রিম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দল ভারতের দিল্লিতে ক্রিকেট সিরিজে অংশ নেয়। ওই সিরিজে ২-১ ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ দলটি। নানা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ বর্নাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজনও করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক এবং পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দিয়েছেন এসব অনুষ্ঠানে। মিজানুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদেন ২০১৫ সালের ৭ই জুন। এরপর থেকে এ জেলায় ২ বছরে তার নানাবিধ কর্মকাণ্ড পুলিশের ইমেজকে নিয়ে গেছে অন্য মাত্রায়। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এএসএম শফিকুল্লাহ বলেন- বিভিন্ন অপরাধ দমনে গতানুগতিক পুলিশিংয়ের বাইরে বর্তমান পুলিশ সুপার তার ইনোভেটিভ চিন্তাশক্তি, দক্ষতা এবং দূরদৃষ্টি দিয়ে মাদক ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত বলেন- বিশেষ করে মহিলাদের জন্যে যে কাজটা পুলিশ সুপার করেছেন উইমেন সাপোর্ট সেন্টার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যতো নির্যাতিত নারী আছে এতে তারা ভালো সফলতা পেয়েছে। আগে থানায় গিয়ে টাকা দিয়ে মামলা করতে হতো। এখন আর থানায় যেতে হয় না, টাকাও দিতে হয় না। এখানে এলে একটা সমাধান হচ্ছে। সুশাসনের জন্যে নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এবং জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু সায়ীদ বলেন-ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের গতানুগতিক পুলিশিং কার্যক্রম পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১
থেকে বের হয়ে আসা, অপরাধ যাতে সংগঠিত না হয় সেজন্যে মানুষের বিবেকবোধ জাগ্রত করা, সচেতনতা সৃষ্টি করা, অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েদের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজকর্মে এগিয়ে আনা খুবই ভালো কাজ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল আজিজ বলেন- আগেতো পুলিশের এ ধরনের একটিভিটিজ ছিলো না। জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি ডাক্তার বজলুর রহমান বলেন- পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ অনেক ভালো কাজ করছে। একটিভলি কাজ করছে। এখন শহরের ইভটিজিং, বখাটেদের উৎপাত বন্ধ হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি খ আ ম রশিদুল ইসলাম বলেন- মাদকের ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ হার্ডলাইনে। পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও ভালো ভূমিকা রাখছে তারা। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম লিটন বলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান খুবই প্রশংসনীয়। বর্তমান এসপি এই কৃতিত্বের দাবিদার। অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা নাজমীন বলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ জনবান্ধব। মাদকের বিরুদ্ধে বড়ধরনের আন্দোলন শুরু করেছে তারা। বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্ণার করে দিচ্ছে তারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারের তত্ত্ব্বাবধায়ক রওশন আরা বলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের যে কার্যক্রম গোটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে আমি মনে করি। অনুশীলন সাংস্কতিক কেন্দ্রের আহ্বায়ক আবদুন নূর বলেন- মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন করা ছাড়াও পেশার বাইরে তাদের অন্যান্য যে কাজ সেগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। জামিয়া কোরআনিয়া সৈয়দা সৈয়দুন্নেছা কারিগরি শিক্ষালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মুফতি এনামুল হাসান বলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবেশ আগের যে কোনো সময়ের চাইতে ভালো। ড্রিম ফর ডিসএ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. হেদায়েতুল আজিজ মুন্না বলেন- ‘পুলিশ-ই জনতা, জনতাই পুলিশ- এই স্লোগান আমি তখন থেকেই বিশ্বাস করছি যখন থেকে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে দেখছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগদানের আগে গোপালগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন মিজানুর রহমান। আড়াইবছরের কর্মকালে সেখানেও সুনামের স্বাক্ষর রাখেন তিনি। এ জন্যে ২০১৫ সালে েপে্রসিডেন্সিয়াল পুলিশ মেডেল (পিপিএম)-সেবা পদক পান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস পাস করার পর ১৯৯৯ সালের ২৫শে জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদেন মিজানুর রহমান। এরপর সহকারী কমিশনার হিসেবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্ব পালন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতির পর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এ বদলি হন। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে সুনামগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গায় দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ২৪শে মে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বদলি হন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে। পরের পোস্টিং গোপালগঞ্জে। তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের রিকাবিবাজারে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon