২২শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, বুধবার, ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
  • প্রচ্ছদ » অপরাধ » যে গোপন লিঙ্কের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী ‘ব্লু হোয়েল’ গেম



যে গোপন লিঙ্কের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী ‘ব্লু হোয়েল’ গেম


প্রকাশিত :০৯.১০.২০১৭, ১২:১৭ অপরাহ্ণ

যে গোপন লিঙ্কের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী ‘ব্লু হোয়েল’ গেম


‘পপকর্ন কার্নিভাল’ নামের একটি গোপন লিঙ্কের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী ‘ব্লু হোয়েল’ গেম। এমনটাই জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। এমনকি ভারতের কান্ট্রি কোড ব্যবহার করে একটি নম্বর থেকে এই লিঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করছেন অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা দাবি করেন, +৯১৭৫৭৪৯৯৯০৯৩ নম্বর থেকে ফোন করে প্রথমে টার্গেটকৃত নম্বরটি ট্র্যাক করে এই ফাঁদে ফেলা হয়। এরপর ‘পপকর্ন কার্নিভাল’ নামের একটি লিঙ্ক পাঠানো হয়। এটাই ব্লু হোয়েলের গোপন লিঙ্ক।

ওই নম্বর থেকে কল করে কিংবা লিঙ্ক পাঠিয়ে ফোন হ্যাক করে গেমটি খেলতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করেন তারা। এদিকে এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই গেমে আসক্ত হয়ে রাজধানীতে ১৩ বছরের এক কিশোরীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সারাদেশে আরও দুজন কিশোরকে এই গেমে আসক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

এই গেমে আসক্ত হয়ে যেহেতু এরই মধ্যে একজন কিশোরী আত্মহত্যা করেছেন এবং আরও দুজন কিশোরকে এই গেমে আসক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে তাই সচেতনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পাঠকদের জন্য তথ্যটি তুলে ধরা হলো।

প্রসঙ্গত,বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর এবার বাংলাদেশে হানা দিয়েছে মরণঘাতি ব্লু হোয়েল গেম। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর এই গেমের বলি হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য মেধাবী তরুণ-তরুণী। রাশিয়ার এক তরুণ মরণঘাতি এই গেমসটি তৈরি করেন।  ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ইন্টারনেটে ‘মরণ নেশার’ এ গেম খেলে সারা বিশ্বে ১৩০ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার পুলিশ।

সাম্প্রতিক সময়ে এই গেমসটির  জনপ্রিয়তা বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে। এমনকি গত দু’মাস ধরে ভারতজুড়ে চলছে ব্লু হোয়েল আতঙ্ক। কিন্তু অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা নামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এই প্রথম এমন ঘটনা শোনা গেলো। এর পর থেকেই অভিভাবকদের মধ্যে এক আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ব্লু হোয়েল গেম কী? অনলাইনে একটি কমিউনিটি তৈরি করে চলে এ প্রতিযোগীতা। এতে সর্বমোট ৫০টি ধাপ রয়েছে। আর ধাপগুলো খেলার জন্য ঐ কমিউনিটির অ্যাডমিন বা পরিচালক খেলতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দিবে। আর প্রতিযোগী সে চ্যালেঞ্জ পূরণ করে তার ছবি আপলোড করবে।

শুরুতে মোটামুটি সহজ এবং কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কাজ দেয়া হয়। যেমন: মধ্যরাতে ভূতের সিনেমা দেখা। খুব সকালে ছাদের কিনারা দিয়ে হাঁটা এবং ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা। তবে ধাপ বাড়ার সাথে সাথে কঠিন ও মারাত্মক সব চ্যালেঞ্জ দেয় পরিচালক। যেগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এ খেলার সর্বশেষ ধাপ হলো আত্মহত্যা করা। অর্থাত্ গেম শেষ করতে হলে প্রতিযোগীকে অাত্মহত্যা করতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon