২২শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, বুধবার, ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ



মেধাবী বিথীর পাশে দাড়ালেন জনবান্ধব পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান


প্রকাশিত :০২.১০.২০১৭, ১১:১৯ অপরাহ্ণ

মেধাবী বিথীর পাশে দাড়ালেন জনবান্ধব পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান

বই ও কলেজে যাওয়া আসার টাকা না থাকায় কলেজে যেতে পারছিলেন না বিথী। সংসারের খরচ চালিয়ে ছেলে সাইফুল ও মেয়ে বিথীর পড়াশুনার খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছিল বিথীর বাবা বিরাজ মিয়ার। অভাব অনটনে সংসার কোনভাবে জোড়াতালি দিয়ে চললেও ছেলে মেয়ের পড়াশুনা বন্ধের উপক্রম হয়ে দাড়িয়েছিল। বিথী কলেজে যেতে চাইলেও বাবার উপার্জনের টাকায় তা কোনভাবেই সংকুলান হচ্ছিলনা। ঠিক সে সময়ে তার পাশে দাড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনবান্ধব পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। বিথীর পড়াশুনার ভার গ্রহন করে আস্বস্থ করেছেন পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে বিথীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বই ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ। পাশাপাশি পড়াশুনার সকল দায়িত্ব নেন পুলিশ সুপার। আর বিথীকে খুঁজে পেতে সহযোগীতা করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি সামাজিক সংগঠন “উৎসাহ”।

জানা যায়, সামাজিক সেবামূলক সংগঠন “উৎসাহ” চলতি বছরের আগষ্ট মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেন। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মুরুব্বিদের সাথে কথা বলেন। খুজেন তাদের সমস্যা। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফরমে খুঁজে পান ভ্রাম্যমান চা বিক্রেতা জেলার বাঞ্ছারামপুরের বাসিন্দা বিরাজ মিয়াকে। কথা বলে জানতে পারেন বিরাজ মিয়ার এক ছেলে চার মেয়ে। তিন মেয়েকে কোনভাবে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে সাইফুল ইসলাম নারায়নগঞ্জ ক্যাডেট কলেজে পড়াশুনা করেন। আর সবার ছোট মেয়ে বিথী নরসিংদী সরকারী কলেজের মানবিক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। এক ছেলে ও এক মেয়েকে পড়াশুনা করিয়ে মানুষ করতে হবে তার। সংসারে আয়ের আর কোন উৎস নেই। তাই জীবনের সাথে যুদ্ধ করে চলছেন তিনি। কিন্তু পেরে উঠছিলেন না।তাই মেয়েকে পড়াশুনা করার জন্য তেমন চাপও দেন না। একদিকে ছেলের পড়াশুনার খরচ অন্যদিকে মেয়ে। তাই বিমর্ষ হয়ে পড়ছিলেন তিনি। এসব বিষয় জানতে পেরে “উৎসাহ” সংগঠনের উদ্যোক্তা শশী ও তার সাথের উদ্যোক্তারা কথা বলে বিরাজ মিয়াকে আস্বস্থ করেন। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারে মো. ইকবাল হোসাইন এর সাথে কথা বলেন। তার সহযোগীতায় জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সাথে কথা হয় সংগঠনের উদ্যোক্তাদের। এসপি মিজান তাদেরকে আস্বস্থ করেন এবং বিথীর সকল দায়িত্ব নেয়ার কথা জানান। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিথীকে প্রথম বর্ষের ফুল সেট বই ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তার হাতে তুলে দেয় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। পাশাপাশি তার পড়াশুনার সকল দায়িত্ব গ্রহন করে তিনি।

এবিষয়ে “উৎসাহ” সংগঠনের উদ্যোক্তা সিরাজুম মুনিরা শশী জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফরমে কথা হয় বিরাজ মিয়ার সাথে। সাথে কথা বলে তার মেয়ে বিথীর কথা জানতে পারি। আমরা তাকে নিয়ে এসপি স্যারের কাছে গেলে এসপি স্যার আমাদেরকে সকল প্রকার সহযোগীতা করার আস্বাস দেন। এসপি স্যারের কারনে ও আমাদের সহযোগীতায় একটি মেয়ে আজ ঝড়ে পড়া থেকে রক্ষা পেল এটাই আমাদের শান্তনা। আমরা চাই এভাবেই প্রতিটি মানুষ একজন আরেক জনের সহযোগীতায় এগিয়ে আসবে। আমরা এসপি স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ।

বিথীর বাবা বিরাজ মিয়া জানান, আমার বয়স অনেক হয়েছে। আমি আর আগের মত হেটে হেটে চা বিক্র করতে পারি না। বর্তমানে আমার মেয়েটির পড়াশুনা প্রায় বন্ধের পথে চলে গিয়েছিল। “উৎসাহ” সংগঠনের কারনে আমার মেয়ে এসপি স্যারের কাছে যেতে পেরেছে। আমি সংগঠনটি ও এসপি স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ। স্যার আমার মেয়ের দায়িত্ব নেয়াতে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন অনেক খুশি। স্যারের কারনে আমার মেয়ের স্বপ্ন হয়তো পূরণ হবে।

এ ব্যাপারে বিথী আক্তার জানান, আমার বাবার অর্থের অভাবে আমার পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যাচ্ছিল। “উৎসাহ” সংগঠন ও এসপি স্যারের কাছে আমি ঋণি। তাদের কারনে আমার স্বপ্ন হয়তো সত্যি হবে। লেখাপড়া করে আমি একজন পুলিশ অফিসার হয়ে দেশের সেবা করতে চাই। আমি সকলের দোয়া ও সহযোগীতা কামনা করি।


এ বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, “উৎসাহ” সংগঠনের মাধ্যমে বিথীর বাবা বিরাজ মিয়াকে আমরা চিনতে পারি। তার পক্ষে মেয়ের পড়াশুনার খরচ চালানো খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছিল। প্রতিটা অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো আমাদের সকলেরই দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমি বিথীর পাশে দাড়িয়েছি। বিথীকে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার সকল প্রকার সহযোগীতা আমি করব। তাকে আপাদত বই ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ দেয়া হয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon