২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, মঙ্গলবার, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ



অনাথ হাবিবার গায়ে হলুদের ছোঁয়া ব্রাহ্মণাবড়িয়ার সরকারি শিশু পরিবারে


প্রকাশিত :১৪.০৭.২০১৭, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

অনাথ হাবিবার গায়ে হলুদের ছোঁয়া ব্রাহ্মণাবড়িয়ার সরকারি শিশু পরিবারে, জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্যে অনাথ হাবিবার বিয়ের আয়োজন হচ্ছে ব্রাহ্মণাবড়িয়ার সরকারি শিশু পরিবারে। 

অনাথ হাবিবার অভিভাবকত্ব গ্রহন করলেন এসপি মিজানুর রহমান পিপিএম। আজ ১৩ জুলাই হাবিবার গায়ে হুলুদ। সরকারি শিশু পরিবার যেন মনোরম সাজে ফুটে উঠেছে। সুন্দর এক রূপসী’র সাজে গায়ে হলুদের মঞ্জে বসানো হয়েছে হাবিবাকে। গাল ভরা হাসিঁ নিয়ে হাবিবার গালে প্রথমেই হলুদ লাগালেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম ও তার সহধর্মীনি। তারপর পৌরসভা’র মেয়র নায়ার কবির, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন ও তার সহধর্মীনি

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এড. লোকমান হোসেন , সাংবাদিক , সাংগঠনিক ও ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তার সাথে মেতে উঠেছে সরকারী শিশু পরিবার। আনন্দের আর সীমা নেই। হাবিবার এতিম আর অনাথ হলেও বিয়ে হচ্ছে রাজকীয় ভাবে।

আলোচিত এই বিয়ে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বত্র চলছে আলোচনা। শিশু পরিবারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়( আজকে) তার গায়েহলুদ হলো । শুক্রবার দুপুরে সেখানেই বিয়ে। এ উপলক্ষে শিশু পরিবারে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।। বিয়েকে ঘিরে সরকারী শিশু পরিবারে উৎসবের আমেজ। বিয়ের শুরুটা পুলিশ সুপার মিজানুর করলেও এখন একে একে অনেকেই বিয়ের সাথে যুক্ত হয়েছেন।

মা-বাবা হারিয়ে ছয় বছর বয়সে হাবিবা আক্তার আশ্রয় নিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরকারি শিশু পরিবারে। প্রায় এক যুগ কেটেছে এখানে। এবার ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তাকে শিশু পরিবারে ছাড়তে হচ্ছে।

কিন্তু হাবিবাকে যেনতেনভাবে বিদায় না দিয়ে তার জন্য বর ঠিক করে বিয়ের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান অনাথ হাবিবার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে তার বর ঠিক করেছেন। বর জাকারিয়া আলমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সোনারগাঁ গ্রামে।

জাকারিয়াকে পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি দিয়েছেন এসপি মিজানুর রহমান। এরপর বিয়ের দিন (১৪ জুলাই) ধার্য করেন।

তিন ভাই বোনের মধ্যে হাবিবা সবার ছোট। বড় বোনকে বিয়ে দিয়েছেন তার মামা-মামি। আর একমাত্র ভাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া হকার্স মার্কেটে কাজ করেন।

মিজানুর রহমান জানান, বিয়েতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক দেবেন সোনার গয়নার সেট। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ঘর নির্মাণ করে দেবেন.

আরো উপস্থিত থাকবেন এডভোকেট ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি এমপি।

“এছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে আরও কিছু স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ, আলমারি ইত্যাদি।

“হাবিবার কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন সরকারি শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা বেগম।”

এসএসসি পাশ হাবিবার বিয়েকে ঘিরে গত এক সপ্তায় দফায় দফায় সভা হয়েছে। বিয়ের রঙ্গিন নিমন্ত্রণপত্র ছাপানো হয়েছে বলেও এসপি মিজানুর জানান।

হলুদ অনুষ্ঠানে হাবিবার পাশে এসপি মিজানুর রহমান

আইনমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পৌর মেয়র, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় তিনশ অতিথি বিয়েতে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান এসপি।

বিয়ের পর সন্ধ্যায় পুলিশ সুপারের বাসভবন থেকে বর-কনেকে বিদায় দেবেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা বেগম বলেন, কয়েক মাস আগে হাবিবার বয়স যখন ১৮ বছর পূর্ণ হয় তখন নীতিমালা অনুযায়ী তাকে শিশু পরিবার ছাড়ার বিষয়টি জানানো হয়। এক পর্যায়ে হাবিবার মামা-মামিকে খবর দেওয়া হলো হাবিবাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। মামা-মামি এসে নিয়ে যেতে চাইলে হাবিবার বিদায়বেলায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

“হাবিবা আমার ওড়না ধরে রেখেছিল। তখন আমি কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়ি। আমিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। তখন বিষয়টি পরিচালনা কমিটিকে জানাই। সিদ্ধান্ত হলো হাবিবা আপাতত শিশু পরিবারেই থাকবে। তাকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে।”

রওশন বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তারপর তিনিই সব করলেন।

হাবিবার হলুদ অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার

তিনি বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব নেন। এগিয়ে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার। হাবিবার বিয়ে নিয়ে তারা কথা বলেন মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে। বিয়ের কাজে যুক্ত হন সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সরকারি শিশু পরিবার সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজকরা জানান, বিয়েতে বরযাত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য খাবারের তালিকায় থাকছে আট পদের খাবার। এর মধ্যে রয়েছে মুরগির রোস্ট, পোলাও, টিকা, গরুর মাংস, সবজি, ডাল, সালাদ ও মিষ্টি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন বলেন, “আমরা ব্যস্ত আছি হাবিবার বিয়ে নিয়ে। শেষ পর্যন্তও যেন কোনো ত্রুটি না হয় সেদিকে সতর্ক খেয়াল রাখছি। আশা করছি, জাঁকজমকপূর্ণভাবেই বিয়ে সম্পন্ন হবে।”



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon