২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, শুক্রবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ



ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারের নিবাসী অনাথ হাবিবার জন্য ভালবাসা


প্রকাশিত :১১.০৭.২০১৭, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারের নিবাসী অনাথ হাবিবার জন্য ভালবাসা

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী সংসদ সদস্য আনিসুল হক দেবেন সোনার গয়নার সেট। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ঘর নির্মাণ করে দেবেন। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে আরো কিছু স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ, আলমারি। এসব কিছু হাবিবার জন্য। তাঁর বিয়েতে দেওয়া হবে এসব উপহার। এখানেই শেষ নয়, তাঁর কর্মসংস্থানের জন্য দেওয়া হবে সেলাই মেশিন। হাবিবার বিয়ের দিনে ‘একগুচ্ছ ভালোবাসা’ নিয়ে উপস্থিত থাকবে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ দুয়েক মানুষ।

হাবিবা সাধারণ মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই মা-বাবাহীন। কাগুজে নাম ‘অনাথ’। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারের নিবাসী হাবিবার বিয়ে আগামী শুক্রবার। গায়েহলুদ বৃহস্পতিবার। হাবিবার জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন চলছে জোরেশোরেই। দফায় দফায় হচ্ছে সভা। ছাপানো হয়েছে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র। হাবিবার বর কসবা উপজেলার সোনারগাঁ গ্রামের মো. জাকারিয়া আলম। তিনি সম্প্রতি পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দিয়েছেন। আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি শিশু পরিবারে ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় হাবিবার গায়েহলুদ। পরের দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় একই স্থানে বিয়ের অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় পুলিশ সুপারের বাসভবন থেকে বর-কনেকে বিদায় দেওয়া হবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরী, জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, পৌর মেয়র নায়ার কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। জানা গেছে, বছর দশেক আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরকারি শিশু পরিবারে ঠাঁই হয় মা-বাবাহীন হাবিবার। সেখানকার শিকড়ের টান ছিন্ন করতে চাননি তিনি। এর পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। হাবিবার জন্য ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেয় অনেকে। বর খুঁজে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। কয়েক মাস আগে হাবিবার বয়স ১৮ পূর্ণ হয়। নীতিমালা অনুসারে তাঁকে ছাড়তে হবে শিশু পরিবার। ডাকা হলো হাবিবার মামা-মামিকে। বিদায়বেলায় অভাবনীয় কাণ্ড। শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক রওশন আরার ওড়না ধরে আছেন হাবিবা। পেছন ফিরে রওশন অবাক। যা হওয়ার তা-ই হলো। পরিচালনা কমিটির কাছ থেকে সিদ্ধান্ত এলো, হাবিবা আপাতত শিশু পরিবারেই থাকবেন। তাঁকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে।

হাবিবার পুনর্বাসনে নানা চিন্তা মাথায় আসে রওশন আরার। প্রথমে ভেবেছিলেন তাঁর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেবেন। কিন্তু তাতে খুব একটা সুবিধা করা যায়নি। বিকল্প হিসেবে হাবিবার বিয়ে নিয়ে চিন্তা করতে থাকলেন। কথা বললেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের সঙ্গে। ভালো ছেলের সন্ধান পেলে চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন কি না—এমন কথায় পুলিশ সুপার ইতিবাচক সাড়া দিলেন। এবার পাত্র খোঁজার পালা। মিলে গেল পাত্র। হাবিবার মামা-মামির সঙ্গে কথা বলে বিয়ের বিষয়টি পাকা করা হলো। হাবিবার পাত্রের চাকরির ব্যবস্থা করলেন পুলিশ সুপার। পরে পুলিশ সুপার বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব নেন। এগিয়ে আসেন শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার। হাবিবার বিয়ে নিয়ে তাঁরা কথা বলেন মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে। বিয়ের কাজে যুক্ত হন সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সরকারি শিশু পরিবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রওশন আরা জানান, কয়েক মাস আগে বিদায় দেওয়ার সময় হাবিবা তাঁর মামা-মামির সঙ্গে যেতে চাচ্ছিলেন না। এর পরই বিকল্প চিন্তা করতে হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক মোস্তফা মাহমুদ সারোয়ার বলেন, ‘হাবিবার জন্য সবাই এগিয়ে এসেছেন। হাবিবার হবু স্বামীকে এনে গত ১০ বছরের প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে চাকরির পরীক্ষার জন্য তৈরি করেছেন তত্ত্বাবধায়ক রওশন আরা। পুলিশ সুপার কথা অনুযায়ী বরের চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। ’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘পুলিশ সুপার ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিয়ের পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন। আশা করছি, জাঁকজমকপূর্ণভাবেই বিয়ে হবে। ’



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon