২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, রবিবার, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
  • প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » বাড়তি আবগারি শুল্ক আরোপ মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা ,সংসদে বাজেট আলোচনায় মতিয়া চৌধুরী



বাড়তি আবগারি শুল্ক আরোপ মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা ,সংসদে বাজেট আলোচনায় মতিয়া চৌধুরী


প্রকাশিত :১৬.০৬.২০১৭, ২:৫২ অপরাহ্ণ

বাড়তি আবগারি শুল্ক আরোপ মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা ,সংসদে বাজেট আলোচনায় মতিয়া চৌধুরী

Screenshot_2017-06-16-17-49-00-1মতিয়া চৌধুরীব্যাংক হিসাবে বাড়তি আবগারি শুল্ক আরোপের প্রস্তাবকে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোরও বিপক্ষে তিনি। 

জাতীয় সংসদে গতকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকে আমানতের সুদ নিম্ন পর্যায়ে। এ ছাড়া রয়েছে মূল্যস্ফীতি, সুদের ওপর কর এবং ব্যাংকের সেবা মাশুল (সার্ভিস চার্জ)। তারপরও ব্যাংক হিসাবে বাড়তি আবগারি শুল্ক আরোপ হবে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বাড়তি আবগারি শুল্ক থেকে সরকার কত পাবে? আয় আসবে ২০০ কোটি টাকার মতো। এ জন্য বিপুল লোকের আয় কমিয়ে দেব?’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘অর্থমন্ত্রী কি আমাদের যক্ষের ধনের পাহারাদার বানাচ্ছেন? পুরো প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিলে ক্ষতি হবে বড়জোর ৩৫৫ কোটি টাকা। এটা বাজেটের খুবই ক্ষুদ্র অংশ।’ 
সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোও ঠিক হবে না বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১০ শতাংশ সুদ ধরলেও হবে ১ হাজার কোটি টাকা। এর সুবিধা পাবে লাখ লাখ লোক। যাঁদের জন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প নেই, তাঁরা ট্রাকের সামনে দাঁড়াতে পারেন না, হাত পাততে পারেন না। তাঁদের অনেকে সমাজের জ্যেষ্ঠ নাগরিক। কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক শ্রেণির মানুষকে ভর্তুকি দিই, যাঁরা প্রাপ্য নন। তার চেয়ে বড় কথা, ঋণখেলাপিদের বিশাল বোঝা নিয়ে তোয়াজ করতে পারি, তাহলে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তের সামান্য বোঝা নেব না কেন?’ 

চালের দাম নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, মোটা চাল উৎপাদনে কৃষক আগ্রহ হারাচ্ছেন। মোটা চালের দাম বাড়লে কৃষক দাম পাবেন। চালের দাম রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়, তাই ঝুঁকি নিয়ে ব্যালেন্স করে এগোতে হচ্ছে। 
কৃষিমন্ত্রী ড. ইউনূসের সমালোচনা করে বলেন, ইউনূস-হিলারি যে ষড়যন্ত্র করেছিলেন, আমেরিকায় তার তদন্ত চলছে। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।

সঞ্চয়পত্রের সুদ ও আবগারি শুল্ক নিয়ে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যদি বাজেটে এ দুই বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন, আমাদের সম্পর্কেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে।’ 
অর্থমন্ত্রী প্রতিবছরের বাজেট বক্তব্যে যে একটা করে শিরোনাম দেন, তা দেখে দেশের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা দেখতে পান না বলে জানান ফজলে হোসেন। 

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে ফজলে হোসেন বলেন, ‘আপনি অর্থনীতিবিদ হতে পারেন, একজন পানের দোকানদারও কিন্তু অর্থনীতিবিদ। দোকানদারও বোঝেন এক দিকে ভ্যাট প্রত্যাহার করে আরেক দিকে রেখে দিলে তা সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে।’ ফজলে হোসেন বলেন, ‘১০ বছরে কত টাকা পাচার হয়েছে? কারা করেছেন? কী তাঁদের পরিচয়? উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেও কোনো লাভ হবে না যদি অর্থ পাচার বন্ধ না করেন।’ 

জাসদের সাংসদ নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘সকালে বিদ্যুৎ এলে বিকেলে নেই, বিকেলে এলে ইফতারের সময় নেই, ইফতারের সময় এলে নেই সাহ্রিতে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নেই।’ 

বিড়ি ও সিগারেটে একই রকম করারোপের প্রস্তাব না করার সমালোচনা করে নাজমুল হক বলেন, এতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো উপকৃত হবে। তারা একটি পয়সাও দেশে বিনিয়োগ করে না। অন্যদিকে দেশীয় বিড়ি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করে। তিনি বলেন, ‘আগে গ্রামে হুক্কা ছিল। উন্নয়নের কারণে সেগুলো বিদায় নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন বিড়ি বিদায় করবেন। বলেননি যে তামাক বিদায় করবেন। অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন, ‘সিগারেটকে কেন উৎসাহিত করছেন? গরিব লোক খায় না বলে?’ 

শীতল অবস্থার পরিসমাপ্তি প্রয়োজন 
নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে বিরাজমান শীতল অবস্থার পরিসমাপ্তি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। সরকারদলীয় সাংসদ নুরুল ইসলাম সুজনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ডেপুটি স্পিকার এ কথা বলেন। 
নুরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি কিছু বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে একটা শীতল অবস্থা বিরাজ করছে বলে গণমাধ্যমে এসেছে। বিচার বিভাগ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এ বিভাগকে শক্তিশালী করতে হবে। ডেপুটি স্পিকার তখন বলেন, এ শীতল অবস্থার পরিসমাপ্তি প্রয়োজন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon