২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, মঙ্গলবার, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ



“আমার বন্ধু ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী এবং কিছু শাহবাগী ভ্রষ্টাচার”


প্রকাশিত :১০.০৬.২০১৭, ২:৩৫ অপরাহ্ণ

“আমার বন্ধু ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী এবং কিছু শাহবাগী ভ্রষ্টাচার”

1-5

মিলি সুলতানা ,তিতাস টেলিগ্রাফ: আমার বন্ধু ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী উজ্জ্বল তারুণ্যে উদ্দীপ্ত একজন রাজনীতিবিদ। বাপ্পীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার খুবই মর্যাদাপূর্ণ। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে দলের জন্য বহু ত্যাগ তিতিক্ষার প্রতীক হয়ে আছেন। বাপ্পীর ব্যাকগ্রাউন্ড কত পরিচ্ছন্ন ও গৌরবমন্ডিত সেটা অনুধাবন করার যোগ্যতা মুর্খের দলের নেই। বাপ্পীকে আমি দীর্ঘদিন ধরে জানি। দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করা যার হৃদয়জাত স্বভাব। জননেত্রী শেখ হাসিনার গৌরবোজ্জ্বল পদচিহ্ন অনুসরণ করে, অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে আছেন বাপ্পী। আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছি ৯ বছর যাবত। এরমধ্যে কয়েকবার বাপ্পী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। যতবার তাঁকে দেখেছি, তাঁর পরিমার্জিত পরিশীলিত চালচলন দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এমনকি আমার বৃদ্ধা মা’ও আমার এই বন্ধুটিকে ভীষণ পছন্দ করেন। প্রায়ই আমার মুখ থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া শুনতে পেতাম। বিশেষ করে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় গুজব বেরিয়েছিল নেত্রী গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। চট্টগ্রামে আমি ছোটবোনকে নিয়ে বাজার করতে গিয়েছিলাম। গ্রেনেড হামলার ঘটনায় রাস্তায় ছুটোছুটি শুরু হয়। বাজার না করেই বাসায় ফিরে এসে দেখি আমার মা ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন। পরে মাকে নিশ্চিত করা হল নেত্রী প্রাণে বেঁচে গেছেন। শান্ত হলেন আমার মা। তবে আইভি রহমানের জন্য তাঁর কান্না থামেনি। আমার জীবনের কি বিভীষিকাময় স্মৃতি সেটা সীমিত বাক্যে লিখে বোঝাতে পারব না। আমার বন্ধু ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী আমেরিকায় এসে সুবিধাবাদীদের মত গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বেড়াননি। দলের হয়ে নানা কাজে ব্যস্ত সময় কাটাতেন। এমনকি ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যেত না। মিটিং ও মতবিনিময় সভা নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখেছি তাঁকে। বাপ্পী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। সর্বত্রই দেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মানুষ জেনেছে জননেত্রীর সফল নেতৃত্বের ইতিহাস। বাপ্পী রাজনীতি করেন, সমাজসেবা করেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ করার জন্য প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার একজন উপদেষ্টাও। ২০১৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী কৈলাস সত্যার্থী একাধিকার বাপ্পীর জণকল্যাণমুলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী ধূমপান ও তামাক বিরোধী আন্দোলনের অতন্দ্র প্রহরী। জাতীয় সংসদে তাঁর বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, (১) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের খুনীদের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হোক। (২) গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের শাস্তির জন্য আইন প্রণয়ন করা হোক।
আমার বন্ধু বাপ্পী অত্যন্ত মেধাবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল এল এম করেছেন। পিএইচডি স্কলার। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন সুদক্ষ আইনজীবী এবং সহকারী এটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১/১১ তে জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মামলায় লড়েছেন।
২০০৯ সালের ২৫ শে মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছেন। আজ কতিপয় শাহবাগী ও সুবিধাবাদীর একটি অংশ আমার বন্ধু বাপ্পী সম্পর্কে কুৎসিত উক্তি করে বেড়াচ্ছে। তারা শাহবাগ ইস্যু পকেটে পুরে জনমনে বিদ্বেষ ছড়াতে আদাজল খেয়ে মাঠে-ঘাটে নেমে পড়েছে। সোশাল মিডিয়াকে নিজেদের আস্তানা বানিয়ে গাঁজাখোরের গ্রুপটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সম্মানিত সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পীকে নিয়ে অরুচিকর উক্তি করছে। আওয়ামীলীগ সম্পর্কে এসব গাঁজাসেবী, বিড়ি সিগারেট ফুঁকা স্বল্পবসনা আলট্রা মডার্ন লেডীরা নোংরামিতে লিপ্ত হয়েছে। তারা নাস্তিকদের সাথে নেশায় চুর হয়ে আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কটুক্তি করছে। বিদ্বেষের নেতৃত্ব দিচ্ছে। অথচ এইসব তথাকথিত অতি প্রগতিশীল গ্রুপটি দল থেকে নানাভাবে সুযোগ-সুবিধা আদায় করছে। এদের স্বভাবই হচ্ছে, যে পাতে খায় সে পাতে বিষ্ঠা ছড়ায়। এইসব বেঈমান সুবিধাবাদী গাঁজাখোর শাহবাগীদের উদ্দেশ্যে বাপ্পী বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা আছেন বলেই আপনারা মধ্যরাতে গলা ফাটান। ভেবে দেখুন, শেখ হাসিনা আছেন বলেই ওইসব কুরুচিপূর্ণ শ্লোগান দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে ঘুমান। নেত্রী আছেন বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। যারা ওদেরকে আঁচল দিয়ে ঢেকে রেখেছিল, আপনারা তাদেরকে কিছু বলেন না কেন?’
ব্যস আর যায় কোথায় চারপায়ী জন্তুর গায়ে ফুটন্ত গরম পানি পড়লে যা হয়, ঠিক তেমনটি হয়েছে। এবার স্বল্পবসনা আধুনিকার দলটি বাপ্পী সম্পর্কে অশ্লীল অরুচিকর উক্তি করার মিছিলে সামিল হয়েছে। এই অর্বাচীনদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, আগে নিজেদের মনের নোংরামি দূর করুন। বিকৃত মানসিকতার সঠিক চিকিৎসা করে আসুন। বাপ্পী আমাকে এটাও বলেছে, ‘যে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চকে আমি আমার চেতনার বাতিঘর মনে করতাম, সেই শাহবাগ যখন জননেত্রীকে নিয়ে কদাকার মন্তব্য করে, এমন শাহবাগকে আমি কোনভাবেই আমার চেতনার বাতিঘর বলে ভাবতে পারিনা।’

হ্যাঁ ইনিই হচ্ছেন ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী। বাপ্পী সম্পর্কে জেনেবুঝে উক্তি করবেন। কি যোগ্যতা আছে আপনাদের একজন সম্মানিত সংসদ সদস্যকে নিয়ে আক্রোশমুলক মন্তব্য করার? আগে নিজেদের অবস্থান এবং যোগ্যতা কষ্টিপাথরে যাচাই করে নিন। তারপর উনাকে উদ্দেশ্য করে আপনাদের মত গাঁজাসেবীদের দুর্গন্ধযুক্ত মুখ দিয়ে উক্তি করার ধৃষ্টতা দেখাবেন। যদি সৎসাহস থাকে। মনে রাখবেন, মুজিব সেনারা কারো রক্তচক্ষুর পরোয়া করে না। আমার বন্ধু বাপ্পী বানের জলে ভেসে আসেনি। রাজপথের নির্ভীক সৈনিক। যে কিনা বিএনপি জামাতের বহু নির্যাতন সহ্য করেছে। রাজপথে পুলিশের লাঠিপেটা খেয়েছে, কিন্তু নিজের আদর্শ থেকে একচুল সরে আসেনি। বেগম মতিয়া চৌধুরী বাপ্পীসহ আরও অসংখ্য নারী নেত্রীদেরকে রাজপথে লাঠিপেটা করার সেইসব ছবি এবং সংবাদপত্রের রিপোর্ট আমরা ভুলে যাইনি।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কথা হচ্ছে, এসব সুবিধাবাদী লেডী কমান্ডোরা গাঁজায় লম্বা টান দিয়ে বলেছে, তারা আওয়ামী লীগের কুৎসিত পরাজয় দেখতে চায়। তারপর হাফপ্যান্ট পরে বিজয় মিছিলে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এখানেই এসব বেঈমান মোনাফেকদের আস্ফালন থেমে থাকেনি। নিজের হাতে বিরিয়ানি রান্না করে আওয়ামী লীগের পরাজয় সেলিব্রেট করার কি দুর্দান্ত পরিকল্পনা করছে। আমার প্রশ্ন, আপনারা যারা আওয়ামী লীগের পরাজয় চান, তারা কি আরেকটি ২১ আগস্ট চাচ্ছেন? জুজুবুড়ির ভয় কাকে দেখাচ্ছেন? আগে অর্ধ উলঙ্গ হাঁটু আবৃত করে আসুন। কারণ এমন সংক্ষিপ্ত পোশাক আমাদের বাঙালি সমাজ এবং কৃষ্টিতে বেমানান। কিছু বলার থাকলে ভদ্র ভাষায় বলুন। তাঁকে কটাক্ষ করার অধিকার আপনাদের নেই। বাপ্পী যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই তথ্য যদি আপনাদের জানা না থাকে তাহলে আজ থেকে মুখস্ত করে রাখবেন।

2-5

মনে রাখবেন আপনাদের যোগ্যতা ওই নোংরামির চৌকাঠ পর্যন্তই। “বিশেষ পাড়ার” মহিলাদের মত নোংরা উক্তি করার জঘন্য স্বভাব বাদ দিন। সিগারেট গাঁজা খেয়ে এবং স্বল্পবসনে ছবি তুলে ফেসবুকে প্রোফাইল ছবি হিসেবে রেখে সমাজ এবং আমাদের নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করার অধিকার কি আপনাদের আছে? সম্মানিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে যা খুশি বলছেন। এরনাম স্বাধীনতা নয়। আরেকটি গ্রেনেড হামলার মহাপরিকল্পনাকারী এবং আর্কিটেকচার হবার স্বপ্ন লালন করছে হাফপ্যান্ট পরা লেডী কমান্ডের দলটি। শাহবাগের পচা বাসী বিরিয়ানি খেতে খেতে ডায়রিয়ার রোগী হয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের গোবরে ভরা মস্তিষ্কই প্রমাণ করে কেমন পারিবারিক সংস্কার আপনারা পেয়েছেন। শাহবাগ নিয়ে ধান্দাবাজি বন্ধ করুন। গণজাগরণ মঞ্চকে কলঙ্কিত করার সনদপত্র আপনাদেরকে কারা দিয়েছে? আবারও সতর্ক করছি, শাহবাগ নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করুন। নিজেদের কুকীর্তির জন্য অন্তত একবার হলেও আয়নায় নিজেদের পাপিষ্ঠ চেহারা দেখে নেবেন। আমি নিশ্চিত আয়নায় আপনারা মেকাপে আবৃত চেহারার পরিবর্তে পচাগলা বিকৃত মুখ দেখতে পাবেন। তখন যেন ভয়ে আবার আঁতকে উঠবেন না। কারণ এটিই আপনার আসল চেহারা। আপনারা যেমন গাঁজাখোর তেমনি রক্তখোরও। রক্তের গন্ধের নেশায় দানবীয় রুপ নিতে জানেন আপনারা। কারণ রক্ত এবং বারুদের গন্ধের সাথেই যে আপনাদের ওঠাবসা।

লেখকঃ মিলি সুলতানা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon