৮ই মে, ২০১৯ ইং, বুধবার, ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ



হজে অব্যবস্থাপনা বাংলাদেশী গাইড সেবা দিল পাকিস্তানী হাজীদের


প্রকাশিত :১৫.০৯.২০১৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ

haj_2016_25048_1473918926আরাফাতের ময়দানে হাজীগণ

কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে হজে যাওয়া অনেক বাংলাদেশী নাজেহাল হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সৌদি আরবের মক্কা থেকে এ অভিযোগ করেছেন সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের মহাসচিব রুহুল আমিন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) সহকারী পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম।

এ দুই কর্মকর্তার অভিযোগ, আরাফার ময়দান থেকে মুজদালিফায় যাওয়ার পথে হজযাত্রীরা যানবাহন পাননি। দীর্ঘ সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশী হাজীদের জন্য নির্ধারিত গাড়িতে তাদের না নিয়ে অর্থের বিনিময়ে পাকিস্তানী হাজীদের পরিবহন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন এই দুই কর্মকর্তা।

তারা জানিয়েছেন, অযোগ্য-অদক্ষ হজ গাইডরা (মুয়াল্লেম) তাদের খাবার পর্যন্ত দেননি। মুয়াল্লেমদের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে অসুস্থ হয়ে অনেক হাজীকে বাড়তি অর্থও গুণতে হয়েছে।

এদিকে রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা হাজীরা কোনও গাইডের দেখা পাইনি। তারা আমাদের পরিবর্তে পাকিস্তানী হাজীদেরকে গাড়িতে চড়িয়ে আরাফাতের ময়দান থেকে মুজদালিফায় নিয়ে গেছেন। কিন্তু আমাদের হেঁটে যেতে হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগে থেকে না জানিয়ে হেঁটে যেতে বাধ্য করায় বয়স্ক হাজীরা চরম বিপদে পড়েছেন। কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন। তারা পাঁচশ থেকে এক হাজার রিয়াল দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছেছেন।’

রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, ‘সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৮৩ জনকে হজ করতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মহির আলী নামে একজনকে গাইড হিসেবে দেয়া হয়েছিল। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে হজ করতে এসেছেন। তিনি গাইডের কিছুই জানেন না।’

‘এ ব্যাপারে হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মহিরের পরিবর্তে জুনায়েদুর রহমান সরকার নামে অন্য একজনকে গাইড হিসেবে দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু আমরা তাকে এখনও চোখে দেখিনি,’ যোগ করেন রুহুল আমিন, যিনি সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের মহাসচিব।

রুহুল আমিনের অভিযোগ, ‘সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে হাজীদের জন্য সব কিছুর সুন্দর আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু হজ ব্যবস্থাপনায় আওয়ামী লীগবিরোধী লোকজন থাকায় হাজীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।’

তিনি জানান, স্থানীয় সময় বুধবার ধর্ম সচিব মো. আব্দুল জলিলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অব্যবস্থাপনার বিষয়টি জানিয়েছেন। সচিব অভিযোগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) সহকারী পরিচালক মুজাহিদুল ইসলামও চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চরম অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছি। মনে হয়েছে বাঙালি হাজীদের মতো অসহায় কেউ নাই। আমাদের গাইড নেই, গাড়ি নেই, খাবার নেই।’

তিনি বলেন, ‘মিনায় গিয়ে দেখি আমাদের জন্য নির্ধারিত সিট অন্যরা দখল করে বসে আছে। আরাফাতের ময়দানে যাওয়ার পরেও দেখি গাইড নেই। বের হওয়ার পরেও দেখি গাইড নেই।’

মুজাহিদুল আরো বলেন, ‘হাজীদের কাছ থেকে সাড়ে ১৩শ’ রিয়াল নেয়া হয়েছে গাইড খরচ বাবদ। কিন্তু আমরা কোনও গাইডের চেহারা দেখিনি। বয়স্ক নারীরা আরাফাতের ময়দান থেকে মুজদালিফায় যাওয়ার জন্য গাড়ি না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এতে তাদের হজ অসম্পূর্ণ রয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন তারা দুই হাজার রিয়াল খরচ করে মুজদালিফায় পৌঁছেছেন।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘ঢাকার শান্তিনগরের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন খন্দকার দেলোয়ার গাইডের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বাংলাদেশী হাজীদের সহযোগিতা না করে পাকিস্তানী হাজীদের মাথা মুণ্ডন করে ১০ রিয়াল করে আয় করতে ব্যস্ত ছিলেন।’

এদিকে, সৌদিতে অবস্থানরত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল জলিল দুই সরকারি কর্মকর্তার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, প্রতি ৪৫ জন হজযাত্রীর জন্য একজন গাইড রয়েছেন। কোনও গাইড হজযাত্রীদের সেবা না দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে।

তিনি জানান, নির্দেশনা মেনে চললে গাইড না পাওয়ার কোনও কারণ নাই। তবে স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করতে গিয়ে নির্দিষ্ট গাইডকে কেউ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

ধর্ম সচিব আরও বলেন, হজ যাত্রীদের পাশেই আমাদের হজ মিশনের কার্যালয় অবস্থিত। সেখানে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানসহ ৪০-৪২ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হজযাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখভাল করছেন। কেউ কোনও অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সংগৃহীতঃ যুগান্তর



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
Designed By Linckon